মন্দা দশা যাচ্ছে চীনের অর্থনীতিতে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। ফলে কমছে ইস্পাতের চাহিদা। চায়না মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) গবেষকরা গতকাল এক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে চীনে ধাতুটির চাহিদা চলতি বছরের চেয়েও ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত ব্যবহারকারী চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপিআই বলছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ধাতুটির চাহিদা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বছর ধাতুটি ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮৯ কোটি টনে। ব্যবহার কমার ফলে বছর শেষে ইস্পাতের উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে চীন ৯৫ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

সরকারি প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত চীন মোট ৮ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টন ইস্পাতজাতীয় পণ্য রফতানি করেছে। ২০১৬ সালের পর দেশটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণে ইস্পাত পণ্য রফতানির রেকর্ড।

এমপিআইর কর্মকর্তারা গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আবাসন খাত ঋণে জর্জরিত থাকায় ইস্পাত খাত চাপের মুখে। নির্মাণ খাতে ইস্পাতের চাহিদা ২০২২ সালের তুলনায় চলতি বছর ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে নির্মাণ খাতে ইস্পাতের চাহিদা ৪ শতাংশ কমাসহ ২০২৪ সালে ধাতুটির চাহিদা কমে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে এমপিআই।