চলতি মৌসুমে ফিলিপাইনের চিনি উৎপাদন প্রায় দুই কোটি টনে পৌঁছার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। যদিও চলতি শস্য উৎপাদন বর্ষে দেশটির চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ১০ লাখ টন। সে হিসেবে প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য কমছে ফিলিপাইনের চিনি আহরণের পরিমাণ। লা নিনার (সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে ঠাণ্ডাজনিত এক ধরনের জটিল আবহাওয়া) দীর্ঘ প্রকোপের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির চিনি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। খবর ফিলিপাইন স্টার।
দেশটির ন্যাশনাল ফেডারেশন অব সুগারকেইন প্লান্টারসের (এনএফএসপি) সভাপতি এনরিক রজাস বলেন, ফিলিপাইনের চিনি উৎপাদন গত বছরের ১ দশমিক ৮৭ থেকে ১ দশমিক ৭১ এলকেজিতে নেমে গেছে। ‘এলকেজি’
হলো আখের প্রতি টনে ৫০ কেজি ব্যাগ হারে যত পরিমাণ চিনি উৎপাদন করা যায় তা।
তিনি বলেন, মার্চ পর্যন্ত আমাদের চিনি উৎপাদনের পরিমণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টনে। যদিও চলতি মৌসুমের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি, অন্যদিকে বেশির ভাগ আখ সংগ্রহ করা হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আরো অনুকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছি। তবে বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। সেক্ষত্রে আমরা বড়জোর ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদনে সক্ষম হব।
সম্প্রতি ফিলিপাইনের সুপার রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসআরএ) চিনিসংক্রান্ত এক অধ্যাদেশ জারি করে। একই সঙ্গে ২০২০-২১ শস্য উৎপাদন বর্ষের চিনি নীতিমালা সংশোধন করা করা হয়। সেখানে ৯৩ শতাংশ দেশী চিনি এবং ৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে দেশের স্থানীয় বাজারে চিনি উৎপাদন বর্ষ গণনা করা হবে সেপ্টেম্বর থেকে আগস্ট পর্যন্ত।
এসআরএর মতে, চলতি বছরের চিনি উৎপাদন প্রাক্কলন আগের থেকে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি চিনি মৌসুমের উৎপাদন প্রাক্কলন কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ টনে। যদিও এর আগে ২১ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি উৎপাদনের প্রাক্কলন করেছিল ফিলিপাইন।
একইভাবে ইউনাইটেড সুগার প্রডিউসারস ফেডারেশ অব দ্য ফিলিপাইনস ইনকরপোরেশনের সভাপতি ম্যানুয়েল লামাতা বলেন, আদোতে মনে হচ্ছে, প্রাক্কলিত ২১ লাখ টন চিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না। ২১ লাখ টন ছিল কেবল একটি লক্ষ্যমাত্রা। তবে সেটিতে পৌঁছার বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
এ অবস্থায় চিনি শিল্পে ফিলিপাইন সরকারের সুনজর প্রত্যাশা এবং এ খাতের আরো আধুনিকায়নে জোর দেন রজাস।










