চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্কে আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত উষ্ণ রয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ওপর। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে এ বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ১০ থেকে ১১ শতাংশ কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স। 

ন্যাচারাল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন অব তুর্কির (জিএজেডবিআইআর) চেয়ারম্যান ইয়াসির আসলান জানিয়েছেন, চলতি বছরে তুরস্কে সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৪৫০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার হতে পারে। যেখানে গত বছরে ব্যবহার ছিল ৪ হাজার ৯৩০ কোটি ঘনমিটার।  

জিএজেডবিআইআর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্কে তাপমাত্রা বেড়েছে। যার ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় উৎস প্রাকৃতিক গ্যাসের হিস্যা কমেছে। আর এতেই মোট গ্যাসের ব্যবহার কমতির দিতে থাকবে। চলতি বছরে সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ৪০ শতাংশ কমতে পারে বলেও জানান তিনি।

অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় সবটাই আমদানি করতে হয় তুরস্ককে, যা দেশটির চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি করেছে। দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পুরোটা রাশিয়া, ইরান ও আজারবাইজান থেকে আমদানি করে। এছাড়া ১৩টি দেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে তুরস্ক।

গত বছর দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১ হাজার ৮২০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ায় এ খাতে ব্যবহার কমেছে। এছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় গ্যাসের ব্যবহার কমে আসবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশটিতে মাসে গড় ৮৮ কোটি ১০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তুরস্কে প্রাকৃতিক গ্যাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় আবাসিক খাতে। কিন্তু চলতি বছরে এ খাতে জ্বালানিটির ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।