স্থবিরতা কাটাতে পারছে না চীনের অর্থনীতি। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। নতুন বিক্রয় ও বিনিয়োগ না থাকায় সংকটে প্রপার্টি খাত। স্থানীয় সরকারগুলো মাত্রাতিরিক্ত ঋণে জড়িয়ে পড়েছে। জনগণের মধ্যে ভোক্তা চাহিদা কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অবসরে চলে যাবে। একসঙ্গে এত মানুষের পেনশন দিতে গিয়ে গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। খবর বিবিসি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মন্থর অর্থনীতি, সংকুচিত সরকারি সুবিধা এবং কয়েক দশকের এক সন্তান নীতি শি জিনপিংয়ের চীনে জনসংখ্যাগত সংকট তৈরি করেছে। যাদের বয়স বর্তমানে ৫০-৬০, তারা আগামী দশকে অবসরে চলে যাবেন। বিপুল এ জনগোষ্ঠীকে পেনশন দেয়া দেশটির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ অবসর নিতে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রায় ৩০ কোটি মানুষ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বয়স্ক গোষ্ঠী, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় সমান।
চীনা সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পেনশন তহবিলের টাকা এরই মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যার বয়স্কদের যত্ন নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল গঠনে দেশটির হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। রাষ্ট্র পরিচালিত চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস অনুসারে, ২০১৯ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী পেনশন তহবিলের অর্থ ২০৩৫ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জানিয়েছে, চীনে শ্রমজীবীদের ২০২০ সালে প্রতি মাসে প্রায় ১৭০ ইউয়ান পেনশন দেয়া হতো।
তবে কেয়ার হোমে বসবাসকারী একটি দম্পতি জানিয়েছেন, একটি কক্ষের জন্য মাসে তারা প্রায় ২ হাজার ইউয়ান ভাড়া দেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির সাবেক কর্মচারী হিসেবে তাদের উভয়ের খরচ করার জন্য যথেষ্ট পেনশন রয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সীরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে গিয়ে বসবাস করা শুরু করেছেন। বয়স্করা নিজেদের দেখাশোনা করার জন্য সরকারি অর্থের ওপর অনেকটা নির্ভর করেন। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী কৃষক হুয়ানচুন চাও। পেনশন পান কিনা জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘না, না, আমাদের পেনশন নেই।’
হুয়ানচুন চাও জানান, তিনি কমিউনিস্ট চীনের জন্মের সাক্ষী। দেশটির মতো তিনিও ধনী হওয়ার আগেই বুড়ো হয়ে গেছেন। অনেক গ্রামীণ ও অভিবাসী শ্রমিকদের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়া ও উপার্জন করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। কারণ তিনি একটি দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা জালের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।’
হুয়ানচুন চাওয়ের সন্তানরাও ভালো কাজের সুযোগ না থাকায় দূরে চলে গেছেন। তারা এখনো প্রায়ই দেখা করার জন্য এখানে আসে। হুয়ানচুন চাও বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি আরো চার বা পাঁচ বছর কাজ চালিয়ে যেতে পারব।’ তিনি ও তার স্ত্রী কাঠ সংগ্রহ করে ফিরে আসার পর এসব কথা বলছিলেন। এ দম্পতি বছরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডলার উপার্জন করেন। কিন্তু তারা যে ভুট্টা চাষ করেন, তার দাম কমছে। তারা আশঙ্কায় আছেন, অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের থাকবে না।










