করোনা মহামারীর কারণে দেশের সামগ্রিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে শ্লথতা বজায় রয়েছে। এর পরও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। এ সময় উত্তরের এ স্থলবন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯৩ কোটি টাকা বেড়েছে। সাত মাসে এ স্থলবন্দর দিয়ে রাজস্ব আয়ের সম্মিলিত পরিমাণ ৩২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সব মিলিয়ে ৩২৪ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময় এ স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১৯৩ কোটি টাকা।

মাসভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের জানুয়ারিতে তা ছিল ৩৭ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে এ স্থলবন্দর দিয়ে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৫৯ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার টাকা। স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যেও জানুয়ারিতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়েও।

গত বছরের শুরুর দিকে দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় মার্চ থেকে এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরু থেকে ফের এ স্থলবন্দরের কার্যক্রম গতি ফিরে পায়। এরপর থেকে পরবর্তী সাত মাসে আমদানি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থলবন্দরটির রাজস্ব আয়ও ফুলেফেঁপে উঠেছে।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রতি মাসেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হবে। রাজস্ব আয় বাড়াতে এরই মধ্যে আমদানি-রফতানিতে উৎসাহ প্রদানসহ রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর পরও বিভিন্ন সময় আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ঘটনা নজরে এসেছে। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়তে শুরু করেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির চেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন মমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজনৈতিক কোন্দল ও মতনৈক্য থাকায় পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে। যার প্রভাব অনেক সময় রাজস্ব আদায়ের ওপর পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বণিক বার্তাকে বলেন, এর আগে টানা ১২ বছর অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়নি। ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এ স্থলবন্দর ব্যবহার প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। এতে আমদানি-রফতানি ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। গত নভেম্বরে অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর থেকে স্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন। ফলে আমদানি-রফতানিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের হারও।

তবে এ স্থলবন্দরের সেবার মান এখনো পুরোপুরি উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। নেই ভারী যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ক্রেন। এসব কারণে আমদানি ও রফতানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ কম দেখান। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা গেলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। বাড়বে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ।