চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা বাড়তে পারে দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২২ সালে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াবে ১৮৪ কোটি টন। আগামী বছর ধাতুপণ্যটির পরবর্তী চাহিদার পরিমাণ বাড়বে ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৩ সালে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮৮ কোটি টন। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ডস্টিল) এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ বেড়েছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় ধাতুপণ্যটির মোট চাহিদার পরিমাণ ছিল ১৮৩ কোটি টন। ওয়ার্ল্ডস্টিল ইকোনমিক কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক্সিনো বেদোয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গত বছর বিশ্বের অনেক অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পরিমাণ মহামারী উত্তর পুনরুদ্ধার দৃশ্যমান হওয়ায় ইস্পাতের চাহিদায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য ওয়ার্ল্ডস্টিলের এ পূর্বাভাস অনেকটাই অনিশ্চিত। মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারের যে প্রত্যাশা, সেটি ইউক্রেন যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিতে হুমকির মুখে পড়েছে।
চলতি বছর ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা কমবে বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ডস্টিল। একই সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশে কভিড-১৯-এর নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ও বিশেষ করে চীনের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান সুদহার বৃদ্ধিও শিল্পধাতুটির চাহিদায় লাগাম টানতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ডস্টিলের মহাপরিচালক এডউইন বাসন বলেন, ২০২৩ সালে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে বলে আমরা আশা করছি। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। অন্তত চলতি বছরের শেষ নাগাদ এসব বাজারে আমরা ইস্পাতের ব্যবহার পুনরুদ্ধার হতে দেখব বলে মনে করছি। তবে আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী ধারণা করছি, রাশিয়া ও ইউক্রেনে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় ইস্পাতের ব্যবহার কমবে এবং এটির প্রভাব চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ইউরোপ এ যুদ্ধের ফলে বেশি পরিমাণ প্রভাবিত হচ্ছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে তাদের আর্থিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে ইউরোপের তুলনায় কম প্রভাবিত হবে।
ওয়ার্ল্ডস্টিল জানায়, চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে ইস্পাতের চাহিদা কমবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় অঞ্চল দুটিতে ইস্পাতের মোট চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৬ কোটি ১৫ লাখ টন। রুশ জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, শরণার্থী সংকটের কারণে এমনটা দেখা যাবে। তবে ২০২৩ সালে ইইউ ও যুক্তরাজ্যে ইস্পাতের চাহিদা ৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ডস্টিল।
উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা বাড়বে ১ দশমিক ১ শতাংশের কম পরিমাণে। ২০২৩ সালে এসব অঞ্চলে ধাতুপণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২১ সালে অঞ্চলগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদায় এমন নেতিবাচক দৃশ্য দেখার বেশকিছু কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্য, আর্থিক বাজারের অস্থিরতা ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা অন্যতম। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইস্পাত উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের উচ্চমূল্য শিল্পধাতুটির চাহিদা হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ডস্টিল জানায়, ইউক্রেনকে ঘিরে সৃষ্ট ভৌগোলিক সংকট বৈশ্বিক ইস্পাত শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখবে। এসবের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি বাণিজ্যে পরিবর্তন, জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ক্রমাগত পুনর্বিন্যাস।










