রফতানি পুনরুদ্ধার হওয়ায় ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, অর্থনৈতিক খরা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এশিয়ার দেশটি। খবর রয়টার্স।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর এ তিন মাসের প্রবৃদ্ধি আগের তিন মাসের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেশি বেড়েছে। এছাড়া রয়টার্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের আগের তিন প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে এক পূর্বাভাসে শূন্য দশমিক ১ থেকে দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন দেশটির অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ।

দেশটিতে প্রত্যাশার চেয়ে প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও উচ্চ সুদহার ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে মন্দা চলায় সামনের দিনগুলোয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ শিবান ট্যান্ডন জানিয়েছেন, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় অধিক প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থবছরে রফতানিতে ভাটার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে দেশের পুঁজিবাজারে ভোক্তার চাহিদা কমবে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন নানাবিধ কারণে এ বছর আমাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মন্থর হতে পারে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।

দেশটির সামগ্রিক উৎপাদন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে। অন্যদিকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। অবশ্য আমদানি-রফতানির এ সূচককে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। 

আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার নিট প্রবৃদ্ধি বেড়েছে দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। যদিও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তার চাহিদা কিছুটা কম পরিলক্ষিত হয়েছে। আগের প্রান্তিকগুলোয় দেশটির ব্যক্তিগত খরচের হার ছিল দশমিক ৩ শতাংশ, যা শেষ প্রান্তিকে কমে হয়েছে দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া দেশটির আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমায় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত বছর আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১২ সালের পর থেকে সবচেয়ে দ্রুততম বিনিয়োগ সংকোচন।

তবে ফ্যাসিলিটি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে দেশটিতে সামগ্রিক সরকারি ব্যয় বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর সবচেয়ে বেশি।