মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেড়েই চলেছে। এ ধরনের পারস্পরিক বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে কৃষি থেকে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাত। ২০৩০ সাল নাগাদ এমইএনএটি নামে পরিচিত এ করিডোরের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে ৫০ শতাংশ। এর পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এইচএসবিসি ব্যাংক। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব ও তুরস্কের বাজারে ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে ভারতের। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রফতানির সুযোগ তৈরি হবে।

এইচএসবিসি ব্যাংক মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা অ্যান্ড তুরস্কের কমার্শিয়াল ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিকপ্রধান প্যাট্রিসিয়া গোমেজ জানান, শক্তিশালী পারস্পরিক স্বার্থ, দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে ভারত ও এমইএনএটি উভয় পক্ষের মধ্যে করপোরেট ও বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিক আগ্রহ বেড়েছে। 

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ভারত। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যেও জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে একাধিক দেশ নীতি সংস্কার করেছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলেছে ভারত।

২০২২ সালে ভারত ও ইউএইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিটির ফলে ২০৩০ সালে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোরের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। যেমন ভারতীয় কোম্পানিগুলো মিসরে পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, খাদ্য, রাসায়নিক ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে তুরস্কে প্যাকেজিং উপকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে খাদ্য-কৃষি উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যা ভারত-জিসিসি অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন রূপ দিয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য ও কৃষি শিল্পের রূপান্তরে জিসিসি অঞ্চলের বিনিয়োগ ভারতীয় কোম্পানিগুলোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। 

এছাড়া এমইএনএটি অঞ্চলে ডিজিটাল অর্থনীতি ও পরিষেবা খাত থেকে সফটওয়্যার, ফিনটেক, ই-কমার্স ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তির মতো ক্রমবর্ধমান খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিচ্ছে ভারত।

ডিজিটাল অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপিতে ১২-১৩ শতাংশ অবদান রাখবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে। এরই মধ্যে আবু ধাবির মুবাদালা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিসহ এমইএনএটি অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা ভারতের ডিজিটাল খাতে প্রবেশ করেছেন। ২০২০ সালে মুবাদালা ১২০ কোটি ডলারের চুক্তিতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল প্লাটফর্মের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদের মতো প্রধান শহরগুলোর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কম থাকায় চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, কোচি, জয়পুর, নাগপুর ও মহিশুরের মতো ভারতীয় শহরে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে।