পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বিক্রি চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আগের হিসাব বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমে গেছে। মূলত বৈশ্বিক ও স্থানীয় সংকটের প্রভাবে কোম্পানিটির মুনাফা কমে গেলে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরে প্রথম প্রান্তিকে আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশের বিক্রি হয়েছে ২০০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ২০০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৩৫ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৭ পয়সা। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২১ পয়সায়।
আরএকে সিরামিকসের কর্মকর্তারা বলছেন, কোম্পানির ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে আলোচ্য প্রান্তিকে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাসের অপ্রাপ্যতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে কাঁচামাল ও জাহাজীকরণের ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফা মার্জিন কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে আরএকে সিরামিকসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে আরএকে সিরামিকসের মোট বিক্রি হয়েছে ৭৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৮৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ৯০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফ কমেছে ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পনিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ১২ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৭ টাকা ৫৩ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আরএকে সিরামিকস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৩ পয়সা।
২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আরএকে সিরামিকস। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল আরএকে সিরামিকস। ২০১৮ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি একই হারে স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। ২০১৭ হিসাব বছরেও একই হারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
আরএকে সিরামিকসের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফমেশন অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড (ক্রিসল)।
২০১০
সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আরএকে সিরামিকস মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাস-আল খাইমার গ্রুপের
একটি যৌথ উদ্যোগ। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন
৪২৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯০
হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৮৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৭৯
লাখ ৬৮ হাজার ৭০১।
এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৭২ দশমিক শূন্য
৮ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ৩০
ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১১ দশমিক ৬২
শতাংশ শেয়ার রয়েছে।










