স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজীিকরণ, দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস এবং লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া স্থানীয় বাজারে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের রফতানি বাজার ধরতে দেশেই মেডিকেল যন্ত্রপাতির কারখানা স্থাপন এবং দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

শনিবার (২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং মেডিকেল ইকুইপমেন্টস বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় এই আহ্বান জানান খাতটির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। দেশের জন্যগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানুষকে সেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার আরো মানোন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে এই খাতের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে আনুন। আপনাদের মতামত বিশ্লেষণ করে এফবিসিসিআই সুনির্দিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।

এ সময় এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, প্রয়োজনের তাগিদেই বড় শহর থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা পর্যায়েও বেসরকারি উদ্যোগে ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এগুলো অনেকটা ইনফর্মাল ভাবে গড়ে উঠেছে। তাদের ধাপে ধাপে ফর্মাল ওয়েতে নিয়ে আসতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে, তাদের ত্রুটি সংশোধন ও মান উন্নয়নে সময় নির্ধারণ করে দেয়া উচিত।

বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শৃঙ্খলা বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট সমিতিকে আরো সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি শমী কায়সার। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ডেটাবেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ এবং এফবিসিসিআই’র পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, প্রতিবছর চিকিৎসা বাবদ প্রচুর অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন সময় হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে, কিন্তু রোগীর সেবায় ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন হাফেজ হাজী হারুন-অর-রশীদ।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোকাদ্দেছ আলী মজুমদার শাহীন। তিনি জানান, বেসরকারি উদ্যোগে একটি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য ১৪ থেকে ১৫টি লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে। লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়াকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও জানান তিনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ বখতিয়ার, সাবেক পরিচালক আবু হোসেন ভূঁইয়া (রানু), জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, কমিটির অন্যান্য কো-চেয়ারম্যান, সদস্য এবং ব্যবসায়ী নেতারা।