চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে বৈশ্বিক চিনির বাজারে সরবরাহ সংকট থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন (আইএসও)। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চিনির যে পরিমাণ চাহিদা থাকতে পারে তার তুলনায় পণ্যটির উৎপাদন প্রায় ৩৫ লাখ টন কম হতে পারে। খবর বিজনেস লাইন ও এগ্রিমানি।

লন্ডনভিত্তিক আইওএসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে চিনির সম্মিলিত চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ টনে। একই সময়ে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৭ কোটি ১১ লাখ টনে। সেই হিসাবে ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্ববাজারে চিনির সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩৫ লাখ টনে।

২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে চিনির সরবরাহ সংকটের পেছনে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় উৎপাদন কমে আসাকে চিহ্নিত করেছে আইওএস। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে প্রতিকূল আবহাওয়া আখ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশ দুটিতে চিনি উৎপাদন কমে আসার এটা বড় কারণ।

এছাড়া ব্রাজিলে আখ ব্যবহার করে চিনির পরিবর্তে জৈব জ্বালানি উৎপাদনের প্রবণতা দেশটির চিনি শিল্পকে উৎপাদন সংকটের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ। পণ্যটির উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় থাইল্যান্ড ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ২০২০-২১ মৌসুমে দেশ দুটিতে উৎপাদন কমতির দিকে থাকায় চিনির বিশ্ববাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ইইউভুক্ত দেশগুলোয় আখ আবাদে বিদ্যমান মন্দা ভাব সেখানকার চিনি শিল্পকে সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তবে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোয় কমলেও ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতে পর্যাপ্ত চিনি উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে আইওএস। এ সময় দেশটিতে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টনের বেশি চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি চিনির গড় দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০ সেন্ট ছাড়িয়ে গেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রতি কেজি চিনির গড় দাম ছিল ২৮ সেন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। পরের মাসে চিনির গড় দাম ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০ সেন্টে উন্নীত হয়।

নভেম্বরে চিনির গড় দাম আরো বেড়ে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৩১ সেন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই মাস ধরে চিনির গড় দামে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। ২০২০-২১ মৌসুমজুড়ে সরবরাহ ঘাটতি বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।