নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে সুতার দরে উত্থান-পতন চলছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশকিছু কাউন্টের সুতার দাম বেড়েছে, আবার কিছু কাউন্টের দাম কমেছে। গত এক-দেড় মাস ধরে সুতার বাজারের এমন ওঠানামার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট ও এলসি খোলায় জটিলতার কারণে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ কমে গেছে। এ সুযোগে কিছু সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে স্পিনিং মিলগুলো। তবে এখনো কিছু কাউন্টের সুতার দাম কমতির দিকে।
টানবাজারে বর্তমানে ১০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে পাউন্ডপ্রতি ৬০-৭০ টাকায়। এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬৫ টাকা দরে। এ হিসেবে পাউন্ডপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। ২০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা পাউন্ড দরে। একই কাউন্টের সুতা গত মাসেও ৮৫-১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এটির দামও প্রতি পাউন্ডে বেড়েছে ৫ টাকা।
তবে দাম কমেছে ২৪, ২৬, ২৮ ও ৩০ কাউন্টের গার্মেন্টস এক্সপোর্ট কোয়ালিটির সুতার। মাসখানেক আগেও কাউন্টপ্রতি এসব সুতার দাম ছিল ১৭০-১৭২ টাকা। বর্তমানে প্রতি পাউন্ডে ৫-৭ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫৮-১৬৫ টাকায়।
আর ৪০ কাউন্টের সুতায় প্রকারভেদে দাম বেড়েছে ৫-৮ টাকা। গত মাসের পাউন্ডপ্রতি ১৬০-১৭০ টাকা থেকে বেড়ে দাম উঠেছে ১৬৮-১৭৫ টাকায়। একইভাবে ৫০ কাউন্টের সুতায় ৬-৭ টাকা, ৬০ কাউন্টে ৫-১০ টাকা ও ৮০ কাউন্টের সুতার দাম ৫ টাকা বেড়ে যথাক্রমে বিক্রি হচ্ছে পাউন্ডপ্রতি ১৮৮-১৯৭ টাকা, ২১০-২২৫ টাকা ও ৩০০ টাকা দরে।
স্পিনিং মিলের মালিক প্রবীর কুমার সাহা জানান, দেশে ডলার সংকট ও এলসি খোলার জটিলতার কারণে সুতার প্রধান উপকরণ তুলা আমদানির পরিমাণ সীমিত হয়ে গেছে। আগে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তুলা আমদানি করা যেত। কিন্তু এখন যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তুলার দাম কিছুটা কমতির দিকে। তাই এ সময় যদি স্পিনিং মিলের মালিকরা বেশি পরিমাণে তুলা আমদানি করতে পারত, তাহলে বাজারে সুতার দাম কমে আসত। কিন্তু ব্যবসায়ীরা চাইলেও এ মুহূর্তে ডলারের অভাবে প্রয়োজনের বেশি আমদানি করতে পারছেন না। অন্যদিকে এখন তাঁতি ও কাপড় উৎপাদনকারী টেক্সটাইল মিলগুলোয় সুতার চাহিদা বেশি থাকার কথা। কিন্তু তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী না কেনায় স্পিনিং মিলগুলোয় সুতা জমে আছে। এ কারণে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির সুতার দাম কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ ইংয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা জানান, সুতার বাজার ঘন ঘন ওঠানামা করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম ১ বা ২ টাকা বাড়ালে স্পিনিং মিলগুলো দেশের বাজারে ৮-১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। সুতার দাম এমন করে ওঠানামা করার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।










