পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) পিএলসির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৪ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা বাড়লেও আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কমেছে। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের আয় হয়েছে ৪২৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১২১ টাকা ২০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১৪ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা ৯৬ পয়সায়।

২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ হাজার ৭৩০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেকিট বেনকিজারের ইপিএস হয়েছে ১৭২ টাকা ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫৯ টাকা ১৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ৫৮ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের রেকর্ড ৩ হাজার ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেকিট বেনকিজারের ইপিএস হয়েছে ১৫৯ টাকা ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৭৩ টাকা ৬৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫০ টাকা ৬৪ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রেকিট বেনকিজারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৭৩ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৩৯ টাকা ৫০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকা ৬৯ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৯৮০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রেকিট বেনকিজার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৩৯ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৭১ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১ হাজার ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেকিট বেনকিজারের ইপিএস হয়েছে ১৭১ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫৬ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা ৬৫ পয়সায়।

রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) পিএলসির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। কোম্পানিটির সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণা দিন পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।

১৯৮৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেকিট বেনকিজারের অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ২৫ হাজার। এর ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ৩ দশমিক ৭৭, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৭৯, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।