দেশের ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে বাংলাদেশী মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন।

জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি, ব্যাংক তদারকির সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যাংক পুনর্গঠন ও সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাংক তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে ক্রয়সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্তের (পিবিসি) মাধ্যমে আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেয়া হবে।

এছাড়া আমানত বীমা কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আমানত পরিশোধের সময় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঋণচুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। অনুত্তোলিত ঋণের ওপর সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। পাঁচ বছর রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্থাটির অর্থায়ন রয়েছে। নতুন এ ঋণ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।