দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ বেশ পুরনো। বিরোধের জের ধরে জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। তবে এর পরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা বেনামে জ্বালানি বাণিজ্য এগিয়ে নিচ্ছে কারাকাসের মিত্র কিছু দেশ। এবার এ তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ জানিয়েছেন, তিনি ভেনিজুয়েলায় জ্বালানিবাহী কার্গো পাঠাবেন। এসব কার্গোতে ‘মানবিক সহায়তার’ জন্য জ্বালানি পণ্য গ্যাসোলিন থাকবে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল তৈরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে বিশেষ এ সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছে মেক্সিকো, এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

এ বিষয়ে আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ বলেন, যদি আমরা ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে মানবিক সহায়তার কোনো আবেদন পাই, তবে দেশটিতে গ্যাসোলিনবাহী কার্গো পাঠাতে আমাদের (মেক্সিকো সরকার) পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেই এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার কোনো আবেদন ফেলে দিতে পারি না।

প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর পরই মেক্সিকোর সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেজ রোজেন্টাল বলেন, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজের এমন ঘোষণা খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ। এ উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের নজর কাড়বে। ফলে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পুরনো বিরোধ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

ভেনিজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার লাগাম টানা যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে শাসনক্ষমতা থেকে সরাতে চায় ওয়াশিংটন। এজন্য বারবার ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নেমে এসেছে। এর জের ধরে এক সময়ের সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ ভেনিজুয়েলা এখন গভীর সংকটে পড়েছে। একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ ও রফতানিতে বাধা, অন্যদিকে প্রধান রফতানি পণ্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক দরপতন—এ দুইয়ের জের ধরে ভেনিজুয়েলার সমৃদ্ধ অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেশটিতে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গ্যাসোলিনের তীব্র সংকট চলছে।

এ পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে মিত্র দেশগুলো। ইরান এরই মধ্যে গ্যাসোলিনবাহী পাঁচটি কার্গো কারাকাস পাঠিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চলছে। এর মধ্যে গত জুনে ইরান-ভেনিজুয়েলার এমন জ্বালানিবাহী কার্গো বিনিময়ে রুষ্ট হয়েছে ওয়াশিংটন। কেননা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ভেনিজুয়েলার সঙ্গে কোনো দেশ জ্বালানি বাণিজ্য কিংবা বিনিময় করতে পারবে না। এটা বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএর সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোজনেফত বেনামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভেনিজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে চীনের বিরুদ্ধেও। এবার এ তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে মেক্সিকো। যদিও দেশটি মানবিক সহায়তার কথা বলছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে প্রথম বিরোধে জড়িয়েছিলেন মেক্সিকোর সঙ্গে। সীমান্তে দেয়াল তোলা নিয়ে দুই দেশের সেই বিরোধ এখনো চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বিরোধের কারণে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ভেনিজুয়েলাকে জ্বালানি সহায়তা দিতে চাইছেন। মেক্সিকো মনে করছে, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর একটি পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।