ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই অস্থিরতা চলছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। রাশিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান ইউরোপকে জ্বালানি সংকটে ফেলে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে মূল্যস্ফীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেড়ে যাচ্ছে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণের খরচ। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো। এ অবস্থায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জ্বালানি বিল বকেয়া থাকা ব্রিটিশ পরিবারের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফজেমের তথ্য অনুসারে, জুন শেষে ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৫১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ বিল এবং ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৫টি পরিবারের গ্যাস বিল বকেয়া ছিল। উভয় সংখ্যা বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ২০২০ সালের শেষ থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

জ্বালানি বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া পরিবারের সংখ্যা এমন সময়ে প্রকাশিত হলো যখন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট জ্বালানি বিলের প্রণোদনা মাত্র ছয় মাস স্থায়ী হওয়ার কথা জানায়। যদিও এর আগে প্রণোদনা দুই বছর স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

জ্বালানি দারিদ্র্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাকশনের নীতি ও অ্যাডভোকেসির পরিচালক পিটার স্মিথ বলেন, ২০ লাখেরও বেশি পরিবার এরই মধ্যে তাদের জ্বালানি বিল নিয়ে বকেয়ায় পড়েছে। এটি গভীর উদ্বেগজনক হলেও আশ্চর্যজনক নয়। গত এক বছরে জ্বালানি বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং আমরা এখনো সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ প্রভাব দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, শীতকাল ঘনিয়ে আসা এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারই ঘরের তাপমাত্রা বাড়ানোর হিটার চালু করতে, এমনকি লাইট জ্বালিয়ে রাখতেও ভয় পাচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি অন্ধকার এবং ভয়ংকর শীত হতে চলেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী যদি ত্বরিত পদক্ষেপ না নেন, তবে আগামী বছর জ্বালানি বিল বকেয়া থাকা পরিবারের সংখ্যা আরো বাড়বে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেনস অ্যাডভাইসের পলিসি প্রধান মরগান ওয়াইল্ড বলেন, পরিবারগুলো ফ্রিজ পর্যন্ত বন্ধ রাখা শুরু করছে। তারা হাত দিয়ে কাপড় পরিষ্কার এবং খাবার গরম করা এড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা লাইট জ্বালানোর বিল পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। গত মাসে সিটিজেনস অ্যাডভাইসের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রেকর্ডসংখ্যক লোক তাদের প্রিপ্রেইড মিটারে অর্থ জমা করতে পারেনি। গত নয় মাসে অষ্টমবারের মতো এ রেকর্ড ভাঙল।

মরগান ওয়াইল্ড বলেন, আগামীতেও জ্বালানি বিল রেকর্ড উচ্চতায় থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ শিগগিরই এ সংকট কাটছে না। এরই মধ্যে আমরা গত বছরের পুরো সময়ে জ্বালানি বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া লোককে সহায়তা করেছি। সরকারকে অবশ্যই কাজ করার আগে সাবধানে চিন্তা করতে হবে যেন আসন্ন শীতে আমরা এ সংখ্যা আরো বাড়তে না দেখি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস, এনার্জি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজির একজন মুখপাত্র বলেন, সরকারের জ্বালানি মূল্য সহায়তা এ শীতে সাধারণ পরিবারের প্রায় ৭০০ পাউন্ড সাশ্রয় করবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ১ হাজার ২০০ পাউন্ড নগদ অর্থসহায়তাও দেয়া হবে। এছাড়া যারা জ্বালানি বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের সাশ্রয়ী মূল্যের অর্থপ্রদানের পরিকল্পনা তৈরির জন্য যথাসম্ভব দ্রুত সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সরবরাহকারীদের অবশ্যই অফজেমের বিধি অনুযায়ী কাজ করতে হবে।