বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ওকুদার। জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা টয়োটা মোটর করপোরেশনের সাবেক এ প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যানের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তবে তার মৃত্যুর তারিখ ও কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টয়োটার মুখপাত্র শিনো ইয়ামাদা। খবর এপি

১৯৯৫-২০০৬ সাল পর্যন্ত টয়োটার প্রেসিডেন্ট ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওকুদা। টয়োটায় তার কর্মজীবন ছিল ৪৫ বছরের। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে শুধু গাড়ি বিক্রিই বাড়েনি, উৎপাদন সক্ষমতাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে টয়োটা বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।

তবে ওকুদার সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে ধরা হয় হাইব্রিড গাড়ি প্রিয়াসের বিকাশ। ১৯৯৭ সালে বাজারে আসে গ্যাস-ইলেকট্রিক প্রযুক্তির গাড়িটি। ওই সময় জ্বালানি সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তি ছিল বেশ নতুন। পরবর্তী সময়ে প্রিয়াস পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রতীক হয়ে ওঠে। জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় টয়োটার জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির প্রতি আগ্রহও বাড়ে।

টয়োটার প্রতিষ্ঠাতা ‘টয়োডা’ পরিবারের সদস্য ছিলেন না ওকুদা। এ কারণে জাপানের অন্যতম বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে তার উত্থান ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি স্পষ্টভাষী ও রসিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুডোতেও তার ব্ল্যাক বেল্ট ছিল।

ওকুদা টয়োটার ব্যবস্থাপনায় তরুণদের সুযোগ দেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্যবসা ভালো চলার সময়ই পরিবর্তন আনতে হয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর পরিবর্তনের চেষ্টা করে লাভ নেই।

জাপানের ব্যবসায়ী মহলেও ওকুদা ছিলেন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি কেইদানরেনসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাপানের অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রধানমন্ত্রীর ইকোনমিক স্ট্র্যাটেজি কাউন্সিল ও জাপান ফেডারেশন অব এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। —এপি অবলম্বনে