লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করতে হলে সব এয়ারলাইনসকে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের খরচ বহন করতে হবে। যুক্তরাজ্য সরকারের জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি (সিসিসি) এ পরামর্শ দিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইউকে সরকারের একটি অংশ হিথরোয় তৃতীয় রানওয়ে ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পক্ষে। তবে সিসিসির মতে, এ ধরনের সম্প্রসারণ হলে যুক্তরাজ্যের কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হবে। এমনকি ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নিঃসরণের লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব হবে না।
সরকারের কাছে গতকাল দেয়া এক প্রতিবেদনে সিসিসি জানায়, হিথরো সম্প্রসারণকে জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে বিমান চলাচল খাতকে আরো দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি বা সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর সঙ্গে বায়ুমণ্ডল থেকে স্থায়ীভাবে কার্বন অপসারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
সিসিসির চেয়ারম্যান নাইজেল টপিং বলেন, ‘বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা হলে উড়োজাহাজ চলাচল খাতকে নিজেদের নিঃসরণ কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে খাতটির সব ধরনের কার্বন নিঃসরণ সরাসরি কমানো অথবা কার্বন অপসারণ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য সরকারকে আইন করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘দূষণকারীকে খরচ দিতে হবে’ নীতি অনুসরণ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এর খরচ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপর চাপতে পারে। সিসিসির হিসাবে, এসএএফ ও কার্বন অপসারণের ব্যয় এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের টিকিটের দামে যোগ করতে পারে। ধাপে ধাপে এ খরচ বাড়ানো হলে ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেনের আলিকান্তে শহরে যাওয়া-আসার একটি ফ্লাইটের টিকিটে প্রায় ১৫০ পাউন্ড বাড়তে পারে। নিউইয়র্কের ফিরতি ফ্লাইটে বাড়তে পারে প্রায় ৪০০ পাউন্ড। আগামী ২৫ বছরে ধীরে ধীরে এ ব্যয় যুক্ত হতে পারে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সিসিসির এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, কার্বন অপসারণ ও এসএএফ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি। প্রয়োজনীয় মাত্রায় এগুলো দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী হবে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।










