দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের পাইকারি দাম ১৭ টাকায় নেমেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি আমদানি হওয়ায় পণ্যটির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

গতকাল বন্দরে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা করে কমেছে। দুদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২২-২৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এখন তা কমে ১৭-১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশিষ্টরা বলছেন, ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ছে। বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকছে। এলসি সংকট কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমদানি প্রবাহ স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেশীয় পেঁয়াজ সরবরাহ কমায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল। এ কারণে বন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজের দামও ছিল বাড়তি। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই দাম কমতির দিকে। যে পেঁয়াজ দুদিন আগেও ২২-২৩ টাকায় কিনেছি, তা এখন ১৭-১৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে সম্প্রতি দেশীয় নতুন পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়ায় মোকামগুলোয় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমে গিয়েছে।’

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন বলেন, দেশের বাজারে চাহিদা মেটাতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। কিছুদিন আগেও ডলার সংকটে কারণে ব্যাংকগুলো চাহিদামতো এলসি দিচ্ছিল না। পুরনো কিছু এলসির বিপরীতে কয়েকজন আমদানিকারকের পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করছিল। বর্তমানে ব্যাংকগুলো নতুন এলসি দেয়ায় অনেকেই নতুন করে এলসি খুলছেন। এতে আমদানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে দেশীয় নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে ওঠায় সরবরাহও ঊর্ধ্বমুখী। চাহিদার তুলনায় বন্দর দিয়ে বাড়তি আমদানির কারণে খানিকটা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন আমদানিকারকরা। এ কারণেই আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক পেঁয়াজ এলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৮-২০ ট্রাকে পৌঁছেছে। বন্দর দিয়ে গত শনিবার ২১ ট্রাকে ৬২০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। রোববার ২০ ট্রাকে ৬১২ ও সোমবার ১৯ ট্রাকে ৫৫৯ টন আমদানি হয়েছে। গতকালও বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত ছিল।