নিয়ন্ত্রণ নীতি অমান্য করায় বড় অংকের অর্থের মাধ্যমে আদালতে নিষ্পত্তিতে গেল মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট ইবে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের মাধ্যমে কেনা যন্ত্রপাতি ক্ষতিকারক ও নকল ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের নিষ্পত্তির আদেশ দেন একটি আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, এসব যন্ত্র বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতাদের সঠিক পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে ইবে। খবর বিবিসি।
ইবে প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া এনক্যাপসুলেটিং যন্ত্র ব্যবহার করে বড়ি তৈরি করেছে, এমন কয়েকজন ব্যক্তি পরে মাদক চোরকারবারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আফিম জাতীয় বিভিন্ন ওষুধের আসক্তি নিয়ে সচেতন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্য। বিশেষ করে ফেন্টানাইল দিয়ে তৈরি বেদনানাশক বড়ির ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এ ধরনের নকল ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে ইবে থেকে কেনা যন্ত্র। বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল বনিতা গুপ্তা জানান, ওষুধ তৈরির যন্ত্রপাতি ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালাও ক্ষুণ্ন করেছে ইবে। ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ আইন মানার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইবেতে বিক্রি হওয়া একটি যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কয়েক হাজার ক্যাপসুল তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাপসুল পাউডার প্যাক করা যায়, এমন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এদিকে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্যমতে, ওভারডোজ বা অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২২ সালে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। এদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে। অধিক ওষুধ সেবন নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৩০ জানুয়ারি ফেন্টানাইল জাতীয় ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড অঙ্গরাজ্য।










