ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতের বৈশ্বিক কিছু জায়ান্ট বয়কটের মুখে পড়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখ দেখেছে। এসব কোম্পানির অন্যতম ফাস্ট-ফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ডস। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বিতর্ক উসকে দেয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বাই ব্যাক পদ্ধতিতে ইসরায়েলের সব আউটলেট কিনে নিচ্ছে ফাস্ট-ফুড জায়ান্টটি। খবর বিবিসি।
ইসরায়েলে ম্যাকডোনাল্ডসের ২২৫টি আউটলেট পরিচালনা করে স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যালোনিয়াল। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছেন, বাই ব্যাকের জন্য তারা এরই মধ্যে অ্যালোনিয়ালের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর আওতায় ম্যাকডোনাল্ডস সব স্টোর কিনে নিচ্ছে। সেখানে পাঁচ হাজার কর্মী আগের মতোই কাজ করবেন।
গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
অ্যালোনিয়াল ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির আউটলেট পরিচালনা করে আসছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে কয়েক হাজার ইসরায়েলি সেনাদের বিনামূল্যে খাবার দেয় স্থানীয় ম্যাকডোনাল্ডস। এর জের ধরে শুরু হয় বিতর্ক।
মার্কিন সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলে কর্মপরিবেশ, পরিচালনাগত পুরনো শর্ত ধরে রাখা হবে। স্থানীয় বাজারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে ম্যাকডোনাল্ডস। তবে অ্যালোনিয়ালের সঙ্গে হওয়া বিক্রির চুক্তির শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছর কুয়েত, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় অ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীরা ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগ এনে ম্যাকডোনাল্ড বয়কটের ডাক দেয়। বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে গত জানুয়ারিতে ফুড জায়ান্টটি জানায়, বয়কটের কারণে ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রিতে।
ম্যাকডোনাল্ডসের চিফ এক্সিকিউটিভ ক্রিস কেম্পজিনস্কি বয়কটের জন্য ‘ভুল তথ্য’কে দায়ী করেন। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় চার বছরের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে বিক্রির কোনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
বয়কটকে ম্যাকডোনাল্ডসের পক্ষ থেকে ‘নৈরাশ্যজনক’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির ৪০ হাজারের বেশি আউটলেট রয়েছে। যার উল্লেখযোগ্য অংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ম্যাকডোনাল্ডসের আউটলেটের প্রায় ৫ শতাংশেরই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে।
জানুয়ারিতে কেম্পজিনস্কি বলেছিলেন, ‘মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসহ যেখানেই আমরা কাজ করি, সেখানে স্থানীয় অপারেটররা গর্বের সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ডসের প্রতিনিধিত্ব করে।’
সঙ্গে যোগ করেন, ‘যতদিন এ যুদ্ধ চলছে... আমরা (এ বাজারে) কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতির আশা করছি না।’










