শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এরই মধ্যে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চব্যয়ের কারণে অনেক তরুণ পড়ালেখা এগিয়ে নিতে পারেন না। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রবেশাধিকার আরো সহজলভ্য করতে পারলে জ্ঞানের বিস্তৃতি আরো বাড়বে।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এবারের সমাবর্তনে মোট ৩ হাজার ৩২২ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৪৬ জন স্নাতক এবং ৬৭৬ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা যদি কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে শিক্ষা আসলে ব্যবহৃতই হয়নি। সমাজকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার সুযোগ ব্যবহার করাই আসল দায়িত্ব।’

শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে নির্দলীয় ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এনএসইউর শিক্ষার্থীরাও সেখানে সাহসী ও দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিরও তার প্রাণ উৎসর্গ করেছে। আমরা সেই ইতিহাসকে স্মরণ করি এবং গর্বের সঙ্গে আহত ও শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। তিনি বলেন, ‘এনএসইউ গ্র্যাজুয়েটরা আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় নীতি প্রণয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা শুধু মেধাবী নয়, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে নাগরিক সাহসেরও উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা সমাজে ইতিবাচকতার প্রসারে ভূমিকা রাখে। তবে ঔপনিবেশিক কাল থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা এ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একদিকে যেমন বেকারত্ব ঘোচাতে ব্যর্থ হয়েছে, একই সঙ্গে নদী দখল ও দূষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারেনি। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের মহান আত্মত্যাগের পরও আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।’

সমাবর্তনে আরো বক্তব্য রাখেন এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।