২০২০-২১ মৌসুমে কফির বৈশ্বিক মজুদ বেড়ে ছয় বছরের সর্বোচ্চে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। মূলত বৈশ্বিক ব্যবহারের তুলনায় পানীয় পণ্যটির উৎপাদন বেশি হওয়ায় মজুদ বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। খবর রয়টার্স।
প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে কফির মৌসুম শুরু হয়, যা শেষ হয় পরের বছরের সেপ্টেম্বরে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২০-২১ মৌসুম শেষে কফির বৈশ্বিক মজুদের পরিমাণ বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখ ব্যাগে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) উন্নীত হতে পারে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে পণ্যটির সর্বোচ্চ মজুদের রেকর্ড।
কফি বাজার ও বাণিজ্য সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ইউএসডিএ জানিয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন রেকর্ড বাড়তে পারে। তবে তুলনামূলক কমতির দিকে থাকতে পারে পণ্যটির ব্যবহার। ফলে দেশে দেশে পানীয় পণ্যটির মজুদ বেড়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে বিশ্বজুড়ে মোট ১৭ কোটি ৬১ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদন হতে পারে, চলতি মৌসুমের তুলনায় যা ৯১ লাখ ব্যাগ বেশি।
পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়াতে মূল ভূমিকা রাখবে ব্রাজিল। বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশটিতে আগামী মৌসুমে মোট ৬ কোটি ৭৯ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদন হতে পারে, যা এ যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোতে পণ্যটির উৎপাদনের চাঙ্গা ভাব বজায় থাকতে পারে। তবে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াতে এ সময় পণ্যটির উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় থাকতে পারে।
ইউএসডিএ জানিয়েছে, আগামী মৌসুমে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ধাক্কা অনেকটা সামলে উঠতে পারে বিশ্ব। ফলে কফির বৈশ্বিক রফতানি বাড়বে, তবে তা উৎপাদনের আনুপাতিক হারের তুলনায় কম। ২০২০-২১ মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ব্যাগ কফি আমদানি করতে পারে। অন্যদিকে এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির আমদানি বেড়ে ২ কোটি ৭০ লাখ ব্যাগে উন্নীত হতে পারে। উভয় দেশের আমদানি বাড়তে পারে ২০ লাখ ব্যাগ করে।
তবে চলতি মৌসুমে কফির রফতানি বাজারে মন্দা ভাব বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত মহামারী রোধে লকডাউন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এর জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে কফির বৈশ্বিক রফতানি দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ২০ লাখ ব্যাগে, আগের মৌসুমের তুলনায় যা ৩৪ লাখ ব্যাগ কম। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ যথাক্রমে ২ কোটি ৫০ লাখ ও ৪ কোটি ৭৫ লাখ ব্যাগ কফি আমদানি করতে পারে, গত মৌসুমের তুলনায় যা যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৫ লাখ ব্যাগ কম।










