চীনে বাড়ির দামের পতন অব্যাহত। ডিসেম্বরে দেশটিতে বাড়ির দাম আরো দ্রুতগতিতে কমে গেছে। আবাসন খাত চাঙ্গা করতে সরকারের কিছু পদক্ষেপ সত্ত্বেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত। এ প্রবণতা ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের কারণে খাতটিতে সৃষ্ট দুর্বল চাহিদাকে প্রতিফলিত করে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে চীনের রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট আরো জটিল হয়েছে। পর্বতসম ঋণে জর্জরিত খাতটি আস্থার সংকটেও ভুগছে। সরকারি তথ্যানুসারে, গত কয়েক মাসে দেশটিতে বাড়ির দাম, বিক্রি ও এ খাতে বিনিয়োগ সবই নিম্নমুখী। এটি দুর্বল হয়ে পড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর আরো চাপ যুক্ত করেছে।

চীনের বৃহত্তম স্বাধীন রিয়েল এস্টেট গবেষণা ফার্ম চায়না ইনডেক্স একাডেমির (সিআইএ) সমীক্ষা অনুসারে, ডিসেম্বরে ১০০টি শহরে বাড়ির দাম টানা ষষ্ঠ মাসের মতো কমেছে। এ সময়ে শহরগুলোয় বাড়ির দাম নভেম্বরের তুলনায় গড়ে দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কমেছে। এর আগে নভেম্বরে দাম কমার হার ছিল দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ১০০টির মধ্যে ৬৮ শহরে বাড়ির দাম মাসভিত্তিক কমেছে। নভেম্বরে বাড়ির দাম কমে যাওয়া শহরের সংখ্যা ছিল ৫৭টি।

চীন সরকার আবাসন খাতে সমর্থন বাড়িয়েছে। খাতটিতে তারল্য চাপ থেকে মুক্তি দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি ডেভেলপারদের ক্ষতিগ্রস্ত করছিল, আবাসন প্রকল্প বিলম্ব এবং ক্রেতাদের আস্থাকে আরো ক্ষুণ্ন করেছিল। এজন্য সরকার এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এছাড়া ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বেইজিং আকস্মিকভাবে জিরো কভিড নীতি প্রত্যাহার করায় বাড়ির চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ চীনারা আবারো স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরলে বাড়ি বিক্রি বেড়ে যাবে। কিন্তু কিছু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে ভাইরাসটি এখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিন সম্ভবত লাখ লাখ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে।

আবাসন খাতের সহজ নীতিগুলো চলতি বছরের সরবরাহ ও চাহিদা উন্নত করতে পারে। সিআইএ বলছে, ২০২৩ সালে চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।