বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্য বিভাগের পূর্বাভাসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বার্ষিক হিসেবে যা ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এ বৃদ্ধি প্রায় দুই বছরের মধ্যে দ্রুততম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মূলত ওয়্যারহাউজ তৈরিতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি কেনার কারণে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তবে উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কর্মী নিয়োগ ও ব্যয় অনেকটাই কমেছে।
অর্থনীতিবিদরা ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে মন্দার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দেশটির অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিতে ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিউইয়র্কের এফডব্লিউডিবিওডিএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি জানান, নতুন প্রতিবেদনটিতে অর্থনীতির জন্য কোনো খারাপ লক্ষণ উল্লেখ নেই, তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি সংশোধনের কারণ হচ্ছে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বিশেষ করে ওয়্যারহাউজ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাঠামোগত বিনিয়োগ বেড়েছে। একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের কারণে আবাসিক বিনিয়োগের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ব্যয়ও বেড়েছে।
যদিও বেসরকারি ইনভেন্টরি বিনিয়োগ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ছিল, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ পয়েন্টে অবদান রেখেছে। ভোক্তা ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে সংশোধিত হয়েছিল।
মজুরি বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তিগত আয় প্রাথমিকভাবে পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হয়েছে। ফলে সঞ্চয়ের হার ৪ শতাংশ বেড়েছে। কর-পরবর্তী করপোরেট মুনাফা ১২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বেড়েছে, যা গত প্রান্তিকের দুর্বল দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় শক্তিশালী ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করছে।
জিডিপি ও মোট দেশজ আয় (জিডিআই) পৃথক হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ আয় (জিডিআই) বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ হারে। কিন্তু জিডিআই বছরওয়ারি ভিত্তিতে দশমিক ২ শতাংশ হারে কমেছে, যা তিন বছরের মধ্যে প্রথম পতন।
কনরাড ডিকোয়াড্রোস, নিউইয়র্কের ব্রিয়ান ক্যাপিটালের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানান, ২০০৭ সালে জিডিআইয়ের এত পতন ঘটেছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মন্দা দেখা দিয়েছিল।










