চীনের বাজারে আবার ফিরতে চায় বোয়িং। তবে সে পথ খুব সুগম হবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। কারণ এ দফায় দেশটির বাজারে বেশ প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনে তৈরি সরু আকৃতির প্যাসেঞ্জার জেট বাহনগুলো বোয়িংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। আগামী সপ্তাহেই এই সি-৯১৯ মডেলের বাহনের ছাড়পত্র পাওয়ার কথা রয়েছে। আর সেটি হয়ে গেলে চীনের বাজারে প্রবেশ করা বোয়িংয়ের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুসারে, সি-৯১৯ তৈরি করছে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট করপোরেশন অব চায়না (কোম্যাক)। এরই মধ্যে দেশের এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবর ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী সপ্তাহে এ ছাড়পত্র পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ছাড়পত্র পেলে এটি চীনের ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হবে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে এখনো কিছু বলেনি কোম্যাক ও সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএএসি)।
সিএএসির সনদপ্রাপ্তির পর সি-৯১৯ সরবরাহ শুরু করবে কোম্যাক। সরু এ উড়োজাহাজের দুই পাশে থাকবে যাত্রীদের বসার আসন। অর্থাৎ একক আইলবিশিষ্ট এ বাহনকে প্রতিযোগিতা করতে হবে বোয়িংয়ের ৭৩৭ এবং এয়ারবাসের এ-৩২০ বাহনের সঙ্গে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাড়পত্র পেতে কিছুটা দেরি হলেও এর মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে।
এভিয়েশন-বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেএলএস কনসাল্টিংয়ের পরিচালক জন স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, চীনের স্থানীয় বাজারের জন্য এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ স্থানীয়ভাবে তৈরি নতুন এ উড়োজাহাজের পক্ষে এয়ারবাস বা বোয়িংকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। একইভাবে বৈশ্বিক পরিসরে জায়গা করে নেয়া কঠিন। কারণ উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে সুনাম তৈরি করা সময়সাপেক্ষ। এজন্য সেবার মানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয়। বিক্রয়-পরবর্তী সেবায় মনোযোগী হতে হয়, যেকোনো সময় ক্রেতার যেকোনো সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে হয়। ফলে বাজারে আসার পর এসব দিকে মনোযোগ দিতে হবে কোম্যাকের নতুন বাহনকে।
সবকিছু ঠিক থাকলে সাংহাইভিত্তিক চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস হতে যাচ্ছে সি-৯১৯-এর প্রথম গ্রাহক। কোম্পানিটি মোট চারটি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এভিয়েশন অ্যাডভোকেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু শার্লটন বলেন, ধারণা করছি যে চীনের স্থানীয় বাহনটি বহরে যুক্ত করার ক্ষেত্রে চায়না ইস্টার্নকে বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আপাতত চীনের বাজারে বোয়িংয়ের ফিরে আসার সহজ কোনো রাস্তাও চোখে পড়ছে না।
২০১৮ সালে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে তার রেশ এসে পড়ে বোয়িংয়ের ব্যবসার ওপর। এরপর ২০১৯-এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে বোয়িংয়ের জন্য।










