বাজারে উঠতে শুরু করেছে দেশে উৎপাদিত নতুন রসুন। পাশাপাশি অব্যাহত আছে ভারত থেকে আমদানি। সম্প্রতি বাজারে মসলা পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে ব্যাপক হারে। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে খুচরা বাজারে রসুনের দাম কমেছে কেজিতে ৫০-৬০ টাকা।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি রসুন ১৪০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৯০-১০০ টাকায় নেমেছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের সাত মাসে বন্দর দিয়ে ৪৯টি ট্রাকে ১ হাজার ২৯১ টন রসুন আমদানি হয়েছে। ভারত থেকে প্রতি টন রসুন ৪০০-৫০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে, যা কাস্টমসে শুল্কায়ন করা হচ্ছে ১ হাজার ৪১০ ডলার মূল্যে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ১১ টাকার মতো শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে।
হিলি বাজারের রসুনবিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘দিনাজপুর ও নাটোর অঞ্চলের কাঁচা রসুন বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে। এতে দেশীয় রসুনের সরবরাহ আগের তুলনায় খানিকটা বেড়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে ভারত থেকে রসুন আমদানি হচ্ছে। যার কারণে দাম কমতির দিকে।’ সামনের দিনে রসুনের দাম বাড়বে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হিলি স্থলবন্দরের রসুন আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘ভারতের বিহার অঞ্চল থেকে রসুন আমদানি করা হচ্ছে। দেশটিতে উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আমদানীকৃত রসুনের মান কিছুটা খারাপ। তার ওপর বাড়তি মূল্যে শুল্কায়ন করায় আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ভারত থেকে রসুন আমদানি করে পড়তা পড়ছে ৬০-৬৫ টাকা। মান খারাপ হওয়ায় এসব রসুন বিক্রি করতে হচ্ছে ২০-৩০ টাকা করে। এ কারণে বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি রসুনও আমদানি হচ্ছে। এতে বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ার পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে।’
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, ‘কেউ যেন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’









