চীন ও ভিয়েতনাম তাদের অনুন্নত রেল সংযোগগুলো উন্নত করার জন্য কাজ করছে। রেলপথ উন্নত করলে তা ভিয়েতনামের প্রধান বিরল খনিজ অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। পাশাপাশি উত্তরাংশে ভিয়েতনামের বৃহত্তম বন্দর পর্যন্ত রেল ব্যবস্থা চালু করবে। উভয় দেশ সম্ভাব্য রেল ব্যবস্থা উন্নত করতে কাজ করছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা জানান, শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হ্যানয় সফরের প্রস্তুতি চলছে। এটি সরবরাহ চেইনে ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ভূমিকাকে আরো শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই গতকাল হ্যানয়ে ভিয়েতনামের উপপ্রধানমন্ত্রী ট্রান লু উ কুয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানান, গভীর বাণিজ্য সম্পর্ক এবং রেল সংযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
গত মাসে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন কুনমিং-হাইফং রেলপথ আধুনিকায়নের আহ্বান জানান। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফর করেন। এখানে তিনি উন্নত অবকাঠামো সংযোগের ওপর জোর দিয়েছেন।
ভিয়েতনামের সঙ্গে আগের থেকে চীনের রেল সংযোগ রয়েছে, তবে সে সিস্টেমগুলো অনেক পুরনো। সেগুলোয় আন্তঃসংযোগ সক্ষমতা নেই। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে রেল ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে। নতুন রেলপথটি ভিয়েতনামের বৃহত্তম বিরল খনিজ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাবে। এতে চীনের বিরল খনিজ পরিশোধনের ওপর আধিপত্য বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ভিয়েতনাম তার নিজস্ব শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে, যা চীনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ লড়াই নিজেদের ভেতর সন্দেহ তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী বিরল খনিজ উত্তোলনে সবার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন বলে ভিয়েতনামের গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ভিয়েতনামের রেললাইন তৈরিতে চীন কতটা অর্থায়ন করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। রেললাইনটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হতে পারে। রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পন্ন হলে ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের রফতানি ও পর্যটনকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি দুটি দেশের শিল্পোৎপাদনকে আরো সংহত করতে পারে।
শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দেশ দুটির বহু বছর ধরে সামুদ্রিক বিরোধ চলছে। যার রেশ ধরে তারা ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে একটি সীমান্ত যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।










