দেশের
বাজারে চাহিদার কথা মাথায় রেখে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। এর পরও বেড়েই
চলেছে জিরার দাম। চারদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৬০ টাকা করে
বেড়েছে পণ্যটির বাজারদর।
আমদানিকারকদের দাবি, ভারতের বাজারে দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে জিরার দাম বাড়ছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জিরার দাম বাড়াচ্ছেন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী।
হিলির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই মসলার সরবরাহ লক্ষ করা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি জিরা ৮৯০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে, যা চারদিন আগেও ৮৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। এর এক সপ্তাহ আগে যা ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
হিলি বাজারের মসলা দোকানি গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে জিরার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। চারদিন আগে আমরা জিরা বিক্রি করেছি ৮৩০ টাকা দরে। কিন্তু মোকাম থেকে জিরা কিনতে হচ্ছে ৮৭০ টাকা দরে, যা বর্তমানে আমরা ৮৯০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আজকে কিনতে গিয়ে শুনছি ৯০০ টাকা দাম চাচ্ছে। কিছু মোকামে এখনো আগের ৮৭০-৮৭৫ টাকা দামেই বিক্রি হচ্ছে জিরা। বাড়তি দামের কারণে অনেক দোকানি জিরা বিক্রিই বন্ধ করে রেখেছেন।’
হিলি স্থলবন্দরের জিরা আমদানিকারক ললিত কেশেরা বলেন, ‘কোরবানির ঈদে দেশে মসলার বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। কিন্তু এর পরও দাম বাড়ছে। এর মূল কারণ হলো ভারতের বাজারে জিরার মূল্যবৃদ্ধি। ভারতে সাধারণত প্রতি বছর যে পরিমাণ জিরা উৎপাদন হয়, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা হয়নি। সরবরাহে ঘাটতির কারণে ভারতের বাজারেই জিরার দাম ঊর্ধ্বমুখী। ডলার রেট বাড়ার কারণে কেজিতে ১৫ টাকার মতো বাড়তি শুল্ক দিতে হচ্ছে। আগে প্রতি কেজি জিরার আমদানি শুল্ক ছিল ১০৫ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১২০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর প্রভাবে মসলাটির দাম বাড়ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে জিরার আমদানির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে বন্দর দিয়ে দুই-তিন ট্রাক করে জিরা আমদানি হলেও গত সপ্তাহ থেকে তা বেড়ে পাঁচ-সাত ট্রাকে পৌঁছে।’









