২০১৮-১৯ অর্থবছরে মিয়ানমার থেকে ২২ লাখ ৯০ হাজার টন চাল ও ভাঙা চাল রফতানি হয়েছে, যা থেকে দেশটির আয় এসেছে ৬৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। রফতানি হওয়া চালের ৭৩ শতাংশই সমুদ্রপথে রফতানি করেছে দেশটি। মিয়ানমার রাইস ফেডারেশনের (এমআরএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইলেভেন মিয়ানমার।

এমআরএফের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ১১ মাসে ৬৫টি দেশে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টন চাল রফতানি করেছে মিয়ানমার, যা থেকে দেশটির আয় এসেছে ৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। একই সময়ে ৪১টি দেশে ৪ লাখ ৯৮ হাজার টন ভাঙা চাল রফতানি হয়েছে, যা থেকে আয় এসেছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার।

এমআরএফ বলছে, গত অর্থবছরে দেশটি থেকে অধিকাংশ চাল সমুদ্রপথে রফতানি হয়েছে। এ সময় সমুদ্রপথে চাল রফতানি হয়েছে ৫০ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ডলারের। আর ১৮ কোটি ৭১ লাখ ৭৪ হাজার ডলারের সমপরিমাণ চাল সীমান্ত দিয়ে রফতানি হয়েছে।

মিয়ানমারের চালের সবচেয়ে বড় বাজার ধরা হয় চীনকে। এ সময় মিয়ানমারের মোট চাল রফতানির ৩৩ দশমিক ৮৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল চীনের বাজার। গত অর্থবছরে দেশটির বাজারে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টন চাল ও ৩৮ হাজার টন ভাঙা চাল রফতানি করেছে মিয়ানমার।

এমআরএফের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় মিয়ানমারের চাল রফতানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টন। আফ্রিকার বাজারে রফতানি হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টন চাল। আর ৪ লাখ ৭৯ হাজার টন চাল অন্যান্য দেশে রফতানি করেছে মিয়ানমার। এর মধ্যে ইইউ ও আফ্রিকার বাজারে সমুদ্রপথে এবং চীনের বাজারে মিউস সীমান্ত দিয়ে চাল রফতানি করেছে মিয়ানমার।

অন্যদিকে চাল রফতানিতে গতানুগতিক বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন বাজার দখলের চেষ্টায় রয়েছে মিয়ানমার। তারই অংশ হিসেবে গত অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩৬ লাখ টন চালের গন্তব্যই ছিল নতুন বাজার, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে মিয়ানমারের চাল রফতানি বাড়লেও চলতি বছর খাদ্যপণ্যটির দাম কমে গেছে। ফলে দেশটির কৃষকদের এখন চালের মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা মোকাবেলায় সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়া চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা উন্নয়নে কেবল বেসরকারি বিনিয়োগ