দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচের দাম ৬০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচের আমদানিও কম। 

হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩২০ টাকা কেজি দরে, তা বর্তমানে ৬০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানীকৃত মরিচের দাম ৩৯০ টাকা বেড়ে ৪৬০ টাকা হয়েছে। 

হিলি বাজারে শুকনা মরিচ কিনতে আসা রোকসানা পারভীন বলেন, ‘বাজারে যেন আগুন লেগেছে। সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। গত সপ্তাহে যে শুকনা মরিচ ৩২০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম, তা সপ্তাহ পার না হতেই কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকা হয়ে গেছে। ভারতীয় কারেন্ট মরিচের দামও বেড়ে গেছে। এভাবে সব পণ্যের দাম বাড়লে সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।’ 

হিলি বাজারের শুকনা মরিচ বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে শুধু পঞ্চগড়ের বিন্দু জাতের শুকনা মরিচের সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহে ঘাটতির কারণে মোকামেই শুকনা মরিচের দাম বাড়তি। শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কম। অন্যদিকে কাঁচামরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক শুকনা মরিচ তৈরি করছেন না। এ বিষয়ও সরবরাহ কমে যাওয়ার বড় কারণ।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বাড়তি দামে কিনতে চচ্ছে। ফলে বাড়তি দামেই বাজারে বিক্রি করছি। এছাড়া দেশীয় শুকনা মরিচের দাম বাড়তির কারণে বাজারে আমদানীকৃত মরিচের চাহিদা খানিকটা বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় বন্দর দিয়ে কারেন্ট মরিচ আমদানি না হওয়ায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে আমরা জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছি। কেউ যেন অবৈধভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে আমরা সজাগ আছি। বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ দেখে কী দামে কিনছেন আর কী দামে বিক্রি করছেন সে বিষয়টি যাচাই করছি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’