বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অন্যতম প্রভাবশালী দেশ কাতার। উপসাগরীয় এ ছোট দেশটি দুই বছর আগে জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের সঙ্গে ৫৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন। ওপেকের ধরাবাঁধা নিয়ম থেকে বের হয়ে এসে এর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে রীতিমতো আধিপত্যশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে চলেছে দেশটি। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশটি দ্রুত তাদের অবস্থান পাল্টে ফেলছে। বৈশ্বিক বাজারবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডান অ্যান্ড ব্রাডস্ট্রিটের প্রতিবেদনেও এলএনজির ক্ষেত্রে কাতারের আধিপত্যশীল হয়ে ওঠার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এলএনজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচ, সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা অর্জন দেশটিকে এগিয়ে রেখেছে। খবর গালফ টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তাদের দেশভিত্তিক প্রতিবেদনে বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা দীর্ঘমেয়াদি একটি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এলএনজির দাম বড় আকারে কমে যাচ্ছে। তবে এ দুটোর কোনোটিই যেন কাতারের উৎপাদন কার্যক্রমের ঊর্ধ্বমুখিতাকে থামাতে পারছে না। বরং নতুন নতুন কূপ খননে কাজ করছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার পেট্রোলিয়াম (কিউপি) নর্থ ফিল্ড এক্সপেনশনের (এনএফই) ৬৪ শতাংশই উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে এসেছে। মূলত উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করছে কাতার সরকার।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এনএফই বা নর্থ ফিল্ড ইস্ট নামে পরিচিত এ প্রকল্প হাতে নেয় কাতার সরকার। বলা হয়ে থাকে, গ্যাসফিল্ডের ক্ষেত্রে সুপারজায়ান্ট হওয়ার জন্যই এ প্রকল্পের ব্যাপক উন্নয়ন করছে সরকার। এ ফিল্ড থেকে বছরে ৭৮ লাখ টন নতুন চারটি এলএনজি ট্রেনকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর রাস লাফানে সংযুক্ত করতে চায় সরকার। এটির ওপর নির্ভর করেই ২০২৪ সালের মধ্যে কিউপি তাদের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ৪৩ শতাংশ বাড়িয়ে বছরে ১১ কোটি টনে নিয়ে যেতে চায়।
এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে ১২ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার। মূলত জ্বালানির বাজারে আধিপত্য বাড়াতে উৎপাদন বাড়াতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে দেশটি। এজন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে কূপ খননে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
সম্প্রতি কাতার যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার প্রডাক্টস অ্যান্ড কেমিক্যালের কাছে এএফই থেকে প্রাপ্ত প্রথম পর্যায়ের এলএনজি বিক্রি করেছে কিউপি। অন্যদিকে উৎপাদনের পাশাপাশি কাতারের এলএনজি রফতানিও ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ডান অ্যান্ড ব্রাডস্ট্রিটের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির এলএনজি রফতানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার কোটি টন বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতার বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
কিন্তু তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বৃদ্ধিও অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে এর মধ্যে কাতারের জন্য সুবিধা হলো দেশটি অন্যদের তুলনায় কম খরচে উৎপাদন করতে সক্ষম, যা এলএনজির বৈশ্বিক বাজারে কাতারের অবস্থানকে ক্রমেই শক্তিশালী করে তুলছে।










