বিশ্বজুড়েই চোখ রাঙাচ্ছে মূল্যস্ফীতি। কেনাবেচায় দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। ভারতের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে গত মাসে দেশটিতে শুরু হওয়া উৎসবের মৌসুম কেন্দ্র করে কেনাকাটা মূল্যস্ফীতির প্রভাবকে ছাপিয়ে গিয়েছে। উৎসব কেন্দ্র করে ভারতীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে কেনাকাটার ধুম। কেনাকাটার তালিকায় গাড়ি-বাড়ি থেকে শুরু করে টেলিভিশন কিংবা গহনা সবই আছে। এমনকি ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে যখন মন্দার শঙ্কা বিরাজমান, তখন গতি পেয়েছে ভারতের অর্থনীতি।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই ভারতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসব। আগামী নভেম্বরের প্রথম ভাগ পর্যন্ত চলবে উৎসবের মৌসুম। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে ভারতে বেচাকেনার পরিমাণ ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। অথচ কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালেও এ পরিস্থিতি ছিল না। সে সময় এ বছরের অর্ধেক বেচাবিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের অনলাইন ও অফলাইনে মোট বিক্রির পরিমাণ গত বছরের চেয়েও ২৫ শতাংশ বেশি।
কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) জানিয়েছে, মোট বিক্রির মধ্যে ক্রেতারা সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করেছেন ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলারের। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮৫০ কোটি ডলার। এছাড়া এ বছর অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এসব প্লাটফর্মের মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো অ্যাপ ও ওয়েবসাইট।
প্রতি বছর অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভারতের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব দশেরা ও দীপাবলি অনুষ্ঠিত হয়। আবার সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময় বিয়ের জন্যও ভালো। ফলে কেনাকাটার পরিমাণ বেশি থাকে বছরের এ সময়টা।
মহামারীপূর্ব সময়ের চেয়েও এ বছর বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বেশকিছু নিয়ামকের কথা বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গত দুই বছর নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। এবার তা অনেকটাই সামলে উঠেছে ভারত। পাশাপাশি বেড়েছে মজুরি হার এবং কর্মসংস্থানের পরিমাণ। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটেছে। আর তাই এ বছর বাজারের অবস্থা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
আবার এ বছর বেড়েছে ভ্রমণকারীর সংখ্যাও। অনেকেই বলছেন, গত দুবছর বাড়ির বাইরে বা নিজ শহরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় এবার যখন কোনো বিধিনিষেধ নেই তখন ভ্রমণকেই বেছে নিয়েছেন সব উদযাপনের মাধ্যম হিসেবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সুদের হার বাড়ছে দুশ্চিন্তাজনক হারে। তখন ভারতের অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে উল্লম্ফন। দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা থাকলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যখন দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চে ছিল, তখন ভোক্তা চাহিদাও ছিল সর্বোচ্চে। ভোক্তার এ চাহিদা মূলত এ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতিকে সহায়তা দিচ্ছে।










