জিরো কভিড-১৯ থেকে সরে আসছে চীন। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিচ্ছে দেশটি। চীনসহ সারা বিশ্বে বিধিনিষেধ শিথিলের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যান্ডুরান্ড ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এমনটা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বা ৪ শতাংশ করে বাড়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে।
অ্যান্ডুরান্ড ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের হেজ ফান্ড ম্যানেজার পিয়েরে অ্যান্ডুরান্ড বলেন, চীন যদি পুরোপুরিভাবে জিরো কভিড-১৯ থেকে সরে আসে, তবে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি কোন পথে যাবে? যদি চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে গতি ফিরে আসে, তবে এ বছর তা নিশ্চিতভাবে দৈনিক ৪৬ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে, যা বেশির ভাগ বিশ্লেষকের প্রত্যাশিত দৈনিক ১০-২০ লাখ ব্যারেলের চেয়ে অনেক বেশি। সর্বোপরি এ বছরের কোনো এক সময় জ্বালানি তেলের চাহিদায় ৩-৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এ বছর বিশ্বজুড়ে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে জ্বালানি তেলে স্থানান্তরিত হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। বিষয়টিও চাহিদা প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান বিশ্বে ধীরে ধীরে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা। কারণ এসব গাড়ি দিনে অন্তত ছয় লাখ ব্যারেল জ্বালানি ব্যবহার সাশ্রয় করতে সক্ষম। বিষয়টি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির গতিশীলতায় কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে।
পিয়েরে অ্যান্ডুরান্ড বলেন, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের কারণে নজিরবিহীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে মস্কো। এতে দিনে অন্তত তিন লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় প্রভাব পড়তে পারে।
অ্যান্ডুরান্ড ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট জানায়, অন্য যেসব বিষয় চাহিদাকে প্রভাবিত করছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্রাহকদের অভ্যাসগত পরিবর্তন। মানুষ এখন ঘরে বসে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এছাড়া বাণিজ্যিক সফরের পরিমাণও কমেছে লক্ষণীয় হারে, যা সার্বিক চাহিদা পরিস্থিতিতে
প্রভাব ফেলছে।
চীন কভিড-১৯ বিধিনিষেধ শিথিল করায় ডিসেম্বরেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। কিন্তু কভিডনীতি শিথিল করার পরিপ্রেক্ষিতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় দাম আবারো কমে যায়।
কভিড-১৯ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সীমান্তে কঠোরতা জারি করেছিল চীন। গতকাল এ-সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে পণ্যটির দাম গতকাল ২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি শিথিল করছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরো কমিয়ে আনতে পারে, যা জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
গতকাল আইসিই ফিউচারস ইউরোপে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ২২ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮০ ডলার ৭৯ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শের দাম ২ ডলার শূন্য ৪ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৫ ডলার ৮১ সেন্টে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অয়েল ব্রোকার পিভিএমের তামাস ভার্গা বলেন, যদি বৈশ্বিক মন্দা এড়ানো যায়, তবে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও চাহিদা প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে। গতকাল দাম বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে চীন। দেশটির অর্থনীতি গতিশীল হয়ে ওঠায় জ্বালানি তেলের বাজার আবারো ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।










