অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) সদস্য নাইজেরিয়া। এ কারণে ওপেক প্লাস জোটের আওতায় জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির শর্ত মেনে চলতে নাইজেরিয়ার ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটি ওপেক প্লাসের বেঁধে দেয়া কোটার তুলনায় বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। এটা নিয়ে দেশটির ওপর ওপেকের প্রচ্ছন্ন চাপ রয়েছে। এর পরও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন আরো বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করার চিন্তাভাবনা করছে নাইজেরিয়া সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন বাড়াতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ফের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

নাইজেরিয়া পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এনপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে কায়রি জানান, বর্তমানে নিজস্ব কূপগুলো থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে নাইজেরিয়া। ২০২২ সাল নাগাদ দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন বাড়িয়ে ৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তি চাহিদা পূরণে নিজস্ব কূপগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে মিলে কায়রি বলেন, বর্তমানে এনপিডিসির আওতায় সক্রিয় কূপের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দিনগুলোয় আরো পাঁচটি কূপ উৎপাদনে আসবে। ফলে ২০২২ সালের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন বাড়িয়ে ৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে খুব বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে না।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইরাক ও নাইজেরিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির শর্ত মেনে চলতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে ওপেকের পক্ষ থেকে বারবার নাইজেরিয়া সরকারকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নির্ধারিত কোটার তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ ক্রমেই

দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই ওপেক প্লাস জোটের বেঁধে দেয়া শর্ত বাস্তবায়নে নাইজেরিয়ার আরো আন্তরিক হওয়া উচিত।

এর পরও নাইজেরিয়া সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের অধীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বর্তমানের তুলনায় বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়ে যেতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের দামে।