নগদ অর্থে লেনদেনের তুলনায় বারকোড স্ক্যান করে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার ক্রেতা-বিক্রেতা। জাকার্তার রাস্তায় সারিবদ্ধ খাবারের গাড়ি থেকে শুরু করে দেশটির প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাজার পর্যন্ত বারকোড ব্যবহার সর্বব্যাপী হয়ে উঠছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে। 

বারকোড বা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড পেমেন্ট হচ্ছে যোগাযোগবিহীন অর্থপ্রদান পদ্ধতি। এতে মোবাইল অ্যাপ থেকে একটি বারকোড স্ক্যান করে অর্থপ্রদান করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা কিউআর পদ্ধতিতে লেনদেনের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৪ কোটি হতে পারে। 

কিউআর কোড ব্যবহারের সময় গ্রাহক তার সেলফোনের মাধ্যমে স্ক্যান করে দ্রুত অর্থ লেনদেন করতে পারে বলে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য এ পদ্ধতি দ্রুত, সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী। ইন্দোনেশিয়ায় কিউআর কোডের জন্য নিবন্ধন করতে খরচ পড়ে ২ ডলারেরও কম। স্বাভাবিকভাবেই ফুটপাত বা রাস্তার পাশের খোলা দোকানের বিক্রেতারাও এখন ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে ঝুঁকছে। তাদের আগ্রহও কমেছে নগদ লেনদেনে। তাছাড়া কিছু দোকান নগদ অর্থ গ্রহণে উৎসাহীও হচ্ছে না। 

সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে, এটি ইন্দোনেশিয়ার বিলিয়ন ডলারের অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে করের আওতায় নিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসা কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর এর সংখ্যাটি দ্বিগুণ হবে। 

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উৎপাদনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অবদান ৬০ শতাংশের বেশি। কিউআর কোড পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও করের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে স্থানীয় সরকারগুলোও। এক বছরে তাদের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১১ শতাংশ। 

কভিড মহামারী ডিজিটাল লেনদেনকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত করে। বিশ্বজুড়ে লকডাউন আরোপের আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক ও ইলেকট্রিক ওয়ালেট ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে স্ট্যান্ডর্ডাইজড কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেনের নির্দেশ প্রদান করে ব্যাংক অব ইন্দোনেশিয়া। যাতে গ্রাহকরা গো-পে অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের ব্যাংকের ই-ওয়ালেটে অর্থ প্রেরণ বা ওভিও অ্যাকাউন্ট দিয়ে খাবার ক্রয়ের জন্য গো-ফুডে অর্থপ্রদান করতে পারে। 

এ সম্পর্কে জাকার্তার বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিডস তঝিন বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা প্রাথমিকভাবে সমন্বিত কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

তাছাড়া স্ট্যান্ডার্ডাইজড কিউআর কোড ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ও বিক্রেতাদের জন্য লেনদেনকে সহজ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ, যারা একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় ই-ওয়ালেট ও কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা দুটোই নিয়ে এসেছে। 

গত বছর কিউআর কোড ব্যবহার করে দেশটির লেনদেনের পরিমাণ পৌঁছে ৯৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ কিংবা ৬৫০ কোটি ডলারে।