চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের কয়লা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সবশেষ জুলাইয়েও আমদানি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিদ্যুতের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে ইউটিলিটিগুলো বিপুল পরিমাণে সস্তা দামের কয়লা কিনছে। মূলত এ কারণেই আমদানির পাল্লা ভারী হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, দেশটি গত জুলাইয়ে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। ওই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাসিক গড় আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ টনে।
জুনের মাঝামাঝি সময় চীনে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। তাছাড়া বছরের এ সময় স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রার পরিমাণ থাকে বেশি। এ কারণে কয়লার চাহিদাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ চাহিদা মেটাতে স্থানীয় উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানিতে জোর দেয় দেশটি।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীন ২৬ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ আমদানির কারণে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় কয়লার মজুদও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
২০২২ সালে কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। চলতি বছরও ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতা অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় ব্যবহার কমলেও এশিয়ায় জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে লক্ষণীয় মাত্রায়। বৈশ্বিক ব্যবহার বাড়াতে অঞ্চলটি, বিশেষ করে চীন প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়।
দুই বছরের লম্বা বিরতি শেষে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে আবারো বাণিজ্য চালু হয়। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক নীতিমালাও শিথিল করা হয়েছে। ফলে চীনের কোম্পানিগুলো অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি বাড়াচ্ছে।
মূলত ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টান পড়লে দেশটিতে কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে বেইজিং চারটি স্থানীয় কোম্পানিকে অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানির অনুমতি দেয়। চারটি কোম্পানিই রাষ্ট্রমালিকানাধীন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক কয়লা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটে।
বিশ্লেষকরা জানান, চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কয়লা রফতানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয়। দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য পুরোপুরিভাবে চালু হলে কয়লার আন্তর্জাতিক বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।










