সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ভুট্টা আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় হাজার টন কমেছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন,  ভারতে সরবরাহ সংকটের কারণে শস্যটির আমদানি নিম্নমুখী।

অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ার ফলে দেশীয় বাজারে ভুট্টার দাম বেড়েছে। এক-দেড় মাসের ব্যবধানে পণ্যটি মণপ্রতি ২০০-২২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এ বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি হয়েছে ৩০ হাজার ২৯২ টন। যার আমদানি মূল্য ১০৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছিল ৩৬ হাজার ৭০৫ টন। যার আমদানি মূল্য ৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সে হিসেবে পণ্যটির আমদানি কমেছে ৬ হাজার ৪১৩ টন। এটি আমদানির মাধ্যমে সরকারের কোনো রাজস্ব আয় হয় না। ফলে নিম্নমুখী আমদানি রাজস্ব আদায়ে কোনো রকম প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা স্থলবন্দরের ভুট্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমডি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের ভুট্টা আমদানি কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারতে দুই-তিন মাস ধরে ভুট্টার সরবরাহ কম। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ভারতে শস্যটির বাজারও চড়া।

তিনি বলেন, ‘গত বছরের এ সময়ে যে ভুট্টা আমদানিতে খরচ পড়েছে ২৮-২৯ টাকা কেজিপ্রতি। বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৩৮-৩৯ টাকা। অন্যদিকে ডলারের মূল্য বেড়েই চলেছে। এ কারণেও ভুট্টাসহ আরো অনেক পণ্য আমদানিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ মো. কামরুল ইসলাম আরো জানান, এখন সপ্তাহে ২০-২৫ ট্রাক ভুট্টা আমদানি হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠানে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫-৩০ শতাংশ কম।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামের পাইকারি ভুট্টা ব্যবসায়ী ও মাড়াই মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আবু ছালেক জানান, তিনি প্রতিদিন ৪০০-৫০০ মণ ভুট্টা মাড়াই করে তা স্থানীয় মত্স্য চাষী ও গরুর খামারিদের কাছে বিক্রি করেন। তবে চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ভুট্টা।

তিনি বলেন, ‘ভোমরা বন্দর থেকে পাইকারিতে প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনছি, যা দুই মাস আগেও কিনেছি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে। ফলে প্রতি মণ ভুট্টার দাম কমপক্ষে ২০০ টাকা করে বেড়েছে।’

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘ভুট্টা আমদানি থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আয় হয় না। চলতি অর্থবছর পণ্যটির আমদানি কিছুটা কমেছে।’