রাশিয়ার ভেতর দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জার্মানি। এরই মধ্যে রাশিয়ার দ্রুজবা পাইপলাইন ব্যবহার করে জার্মানিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে কাজাখস্তান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পাইপলাইন অপারেটর কাজট্রান্সঅয়েল এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর আরটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাজট্রান্সঅয়েল চলতি মাসে দ্রুজবা পাইপলাইন ব্যবহার করে জার্মানিতে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত এ পাইপলাইনের মাধ্যমে পোল্যান্ডের অ্যাডামোও-জাস্তাওয়াতে দুটি ২০ হাজার টন তেলের চালান সফলভাবে সরবরাহ করেছে। সেখান থেকে জ্বালানি তেল জার্মানির পিসিকে পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে প্রত্যাশার তুলনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেকটাই বলে জানা গেছে।
জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কাজাখস্তানের জ্বালানি তেল সরবরাহে সবুজ সংকেত দেয় মস্কো। এর আগে দ্রুজবা পাইপলাইন ব্যবহারের বিষয়ে রাশিয়ার এনার্জি জায়ান্ট ট্রান্সনেফটের সঙ্গে চুক্তি করে কাজট্রান্সঅয়েল। চুক্তির অধীনে কাজাখস্তান ২০২৩ সালে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য ১২ লাখ টন জ্বালানি তেল মজুদ করেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকেই তিন লাখ টন সরবরাহ করা হয়েছে।
২০২২ সালে কাজাখস্তান ৮ কোটি ৪২ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। চলতি বছর ৯ কোটি ৫০ লাখ টন উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৭ কোটি ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল রফতানির লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে। কিন্তু এর পুরোটাই এখন চুক্তির অধীনে। তাই এটি পরিবর্তন করতে হলে দেশটিকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা দিতে হবে।
জার্মানিতে সরবরাহের জন্য দেশটির কাছে অতিরিক্তি জ্বালানি তেলের মজুদ নেই বলে সতর্ক করেছে বিশেষজ্ঞরা। যদি থেকেও থাকে তাহলে পিসিকে শোধনাগারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টন তেলের প্রয়োজন হবে। সেদিক থেকে কাজাখ ট্রানজিটের জন্য যে ১২ লাখ টন মজুদ রয়েছে তা মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ।
গত
ডিসেম্বরের শুরুতে রাশিয়া থেকে সব ধরনের অপরিশোধিত
জ্বালানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয় ইইউ। এর পর থেকে
বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে কাজাখস্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে বার্লিন। অন্যদিকে জার্মানি, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে
দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।









