টানা তৃতীয় নিলামে বেড়েছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম। সীমিত সরবরাহ এ মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) ৩৪৬তম আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৮৮ ডলারে।
নিলাম তথ্য বলছে, এর আগে চলতি মাসের প্রথম নিলামে প্রতি টনের দাম ছিল ৩ হাজার ৩২৩ ডলার। এ হিসাবে এবারের নিলামে প্রতি টনে দাম বেড়েছে ৬৫ ডলার। বছরের সর্বশেষ এ নিলামে দাম বাড়লেও সে অনুপাতে চাহিদা বাড়েনি। ফলে বিক্রির পরিমাণ কমেছে।
প্রতি মাসে দুবার দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। এবারের নিলামে ১৫৬ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। এর মধ্যে ১০৮ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন। নিলামে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ২২ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার ৩৭৯ টন। আগের নিলামে বিক্রি হয়েছিল ২৯ হাজার ৫৫৯ টন।
সর্বশেষ নিলামের তথ্যে দেখা গেছে, চারটি পণ্যের দাম বাড়লেও কমেছে দুটির। আর অপরিবর্তিত ছিল একটির। এবারের নিলামে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ তোলা নেয়নি।
জিডিটি নিলামে সবচেয়ে প্রভাবশালী পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। পণ্যটি থেকে সরাসরি লাভবান হন খামারিরা। এটির দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ২০৭ ডলারে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৮ ডলারে।
এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাখনের দাম। এটি বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৫ হাজার ৪৫৮ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে চেডার পনিরের দাম। এটি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ২৬৫ ডলারে।
এদিকে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের দাম নেমেছে ২ হাজার ৬২০ ডলারে। আর পনিরের দাম কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। টনপ্রতি লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৯৬০ ডলারে। তবে আগের নিলামের টনপ্রতি ৭৯৬ ডলারেই অপরিবর্তিত ছিল ল্যাকটোজের দাম।
এনজেডএক্স ডেইরি বিশ্লেষক রোজালিন্ড ক্রিকেত বলেন, ‘এ মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাশিত ছিল। ক্রয়ের দিক থেকে এবারের নিলামে শীর্ষে ছিল উত্তর এশিয়া। গুঁড়াে দুধ ও মাখন উভয়ের সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল অঞ্চলটির ক্রেতারা। তবে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট ও চেডারের শীর্ষ ক্রেতা ছিল মধ্যপ্রাচ্য। সব মিলিয়ে এবারের নিলামে কৃষকরা খুশি হয়েছেন।’
চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুগ্ধপণ্য আমদানিকারক। বড়দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে এসব পণ্যের চাহিদা। আগামী বছরের শুরুতেও চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। ফলে দাম যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়ীদের মুনাফা মার্জিনেরও ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমে আসবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দুগ্ধ সমবায় ফন্টেরা প্রতি কেজি দুধের দাম ৭ ডলার ৫০ সেন্টে ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিল।










