ছয় মাসের মধ্যে মার্চে প্রথমবারের মতো চীনের কারখানাগুলোয় কার্যক্রম বেড়েছে। তবে সামগ্রিক হিসাবনিকাশে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ অর্জন কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। কারণ এ সময় দেশগুলোয় অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এশিয়াজুড়ে কারখানা কার্যক্রমে মন্থরতা দেখা দেয়। এর প্রতিফলন দেখা গেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সের জরিপে। খবর রয়টার্স।
এ সময়ে এশিয়ার রফতানির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থা দেখা গেছে।
ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) চীনের সূচক আগের মাসের ৫০ দশমিক ৯ থেকে মার্চে ৫১ দশমিক ১-এ উন্নীত হয়েছে। এ সূচকে কারখানা কার্যক্রম ১৩ মাসের মধ্যে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক আস্থা ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে এসেছে।
এর আগে অফিশিয়াল পিএমআই জরিপে দেখা যায়, চীনের কারখানা কার্যকলাপ ছয় মাসে প্রথমবারের মতো প্রসারিত হয়েছে। পিএমআই অনুযায়ী, মার্চে সূচক বেড়ে ৫০ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪৯ দশমিক ১ পয়েন্ট। রয়টার্সের এক জরিপে সূচকের পূর্বাভাস ছিল ৪৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট। ৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করায় সংকোচন থেকে বেরিয়ে প্রসারিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত করে পিএমআই সূচক।
আবাসন খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য লড়াই করছে চীন। এরই মাঝে শিল্পোৎপাদনে গতিশীলতা বেইজিং ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা ডাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদীয়মান বাজারবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেন, ‘চীনের রফতানি কিছুটা বাড়ছে। কারণ দেশটির পণ্যের দাম কম। এর মানে বাজারে চাহিদা বাড়েনি। ফলে অন্যান্য এশীয় দেশকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির স্পষ্ট কোনো চালক না থাকায় এশিয়ার জন্য ইতিবাচক কিছু ভাবা কঠিন।’
অন্যদিকে এশিয়ার অন্যান্য অংশের মন্থরতা এ অঞ্চলের নীতিনির্ধারকদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। এর মধ্যে দুটি অনিশ্চয়তা হলো বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধারের লক্ষণগুলোর অস্পষ্টতা ও মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর সময়সীমা।
আউ জিবুন ব্যাংকের পিএমআই অনুসারে, মার্চে জাপানে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২-এ, যা গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ। এর আগের মাসের সূচক ৪৭ দশমিক ২ হিসাবে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার ঘটেছে, যা তিন থেকে দেড় বছরের মধ্যে দ্রুততম গতি।
কিন্তু নতুন রফতানি আদেশ কমে যাওয়ায় টানা ১০ মাস দেশটির কার্যকলাপ সংকুচিত হয়েছে, যা চীন ও উত্তর আমেরিকার মতো মূল বাজারগুলোর নেতিবাচক পরিস্থিতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পোৎপাদন মার্চেও মন্থর ছিল। এ কারণে পিএমআই সূচকে ফেব্রুয়ারির ৫০ দশমিক ৭ থেকে পরের মাসে ৪৯ দশমিক ৮-এ নেমে আসে। তাইওয়ানের পিএমআই ফেব্রুয়ারির ৪৮ দশমিক ৬ থেকে সামান্য বেড়ে মার্চে ৪৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভিয়েতনামে সূচক ৫০ দশমিক ৪ থেকে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমে এসেছে এবং মালয়েশিয়ায় ৪৯ দশমিক ৫ থেকে ৪৮ দশমিক ৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় মার্চে উৎপাদন কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত সংশোধিত পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রসারিত হবে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো চাহিদা ও চীনে অর্থনৈতিক খাতে প্রত্যাশিত ব্যবস্থাপনাকে পূর্বাভাসে চালক হিসেবে ধরা হয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চিত্র দেশ ভেদে ভিন্ন হবে। জাপানের প্রবৃদ্ধি দশমিক ৯ শতাংশে ধীর হতে পারে, আবার ভারতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের অর্থনীতি এ বছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রসারিত হবে, এর আগে ২০২৩ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ।










