চকলেট তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোকো। বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম এখন বাড়ছে। ২০২৩ সালের শুরুর তুলনায় তিন গুণ বেড়ে পণ্যটির দাম এখন টনপ্রতি ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে কোকোর চোরাচালানও এখন ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় পণ্যটির চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় হেলিকপ্টার টহল জোরদার করেছে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট। কোকো চোরাচালান প্রতিরোধে আকাশ থেকে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নেয়া হচ্ছে অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
কোকোর মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশ হয় আইভরি কোস্ট ও ঘানায়। দেশদুটিতে সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া কোকোর মূল্য তুলনামূলক কম। আর পণ্যটির বাজারমূল্যে কৃষকের হিস্যা থাকে খুবই সামান্য। এজন্য দেশদুটির কৃষকদের মধ্যে এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বারকিনা ফাসো, গিনি ও টোগোর মতো প্রতিবেশি দেশগুলোয় কোকো পাচার করে দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সরকারি তথ্য বলছে, শুধু ২০২৩-২৪ বিপণন বর্ষেই (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) আইভরি কোস্ট থেকে ২ লাখ টন ও ঘানা থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কোকো পাচার হয়েছে।
পাচার হওয়া এসব কোকোর চূড়ান্ত গন্তব্য হলো বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মতো বড় প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব হিসেবে পরিচিত দেশগুলোয়। সেখানকার চকলেট শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় পণ্যটি। পাচার রোধে আইভরি কোস্ট সরকার কোকো চোরাচালানকে অর্থনৈতিক অপরাধ ঘোষণা করে বিশেষ আর্থিক ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত গঠন করেছে। সীমান্তে হেলিকপ্টারে টহল দিয়ে পাচারকারীদের ধরার চেষ্টাও করা হয়েছে। যদিও ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে এসব পদক্ষেপ থেকে তারা সুফল পেয়েছে খুব কম। অনেক সময় অভিযানে আটক করা কয়েক টন কোকোর মধ্য থেকে কিছু অংশ প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে গায়েব হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোকো পাচারের প্রভাব শুধু কৃষকদের আয়ের ওপর সীমাবদ্ধ নয়। পাচারের কারণে আইভরি কোস্ট ও ঘানার জাতীয় বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। রফতানি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব কমে যাওয়ায় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বাজারে কোকোর দাম না বাড়ালে পাচার ঠেকানো কঠিন হবে। কারণ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বেশি দামে বিক্রির সুযোগ পাচারকারীদের আকৃষ্ট করছে। ফলে উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরকারকে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকেই জোর দিতে হবে।
তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেসেবিলিটি আইন পাচার রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আইনটি কার্যকর হলে অবৈধ ও অননুমোদিত পথে সংগৃহীত কোকো ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না।










