সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অন্যতম শহর শারজায় আবাসন খাতে ভারত, পাকিস্তান, মিসরসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রেকর্ড বিনিয়োগ করেছেন। ২০২৩ সালে শহরটিতে এ খাতে বিনিয়োগ ৭০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। খবর অ্যারাবিয়ান নিউজ।

বিদেশী নাগরিকদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বৈচিত্র্য দেখা গেছে এ বছর। ১০৩টি দেশের নাগরিকরা শারজার আবাসন খাতের অংশ হয়েছেন। যা ২০২২ সালের তুলনায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এ সময় অনারব বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্য ১৬৫ শতাংশ এবং লেনদেনকৃত সম্পত্তি ১৩১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া বন্ধকি লেনদেন ২০৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে সম্পত্তির দলিল লেনদেনে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। যার মোট পরিমাণ ২৪ হাজার ৮৪২টি। এ সময় বিক্রি হয়েছে ৮ কোটি ৯০ লাখ বর্গফুট স্পেস। এছাড়া পরিষেবা খরচ ২৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

ইউএই সরকারের নীতি সংস্কারের কারণে দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশীদের আনাগোনা বেড়েছে। সহজ ভিসা ও করমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে দুবাই হয়ে উঠেছে বিদেশীদের করস্বর্গ। সেই হাওয়া আবুধাবি, শারজাসহ অন্যান্য শহরেও লেগেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে প্রাথমিক বিক্রয় চুক্তির লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ছিল ৩৮ দশমিক ৪  শতাংশ। যার আর্থিক মূল্য ২০৪ কোটি ডলার। 

শারজা রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ আহমেদ আল শামসি জানান, ২০২৩ সালে শারজার আবাসন খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখেছে। যার পেছনে রয়েছে সরকারের শক্তিশালী নীতি ও বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শারজা শহরের লেনদেনের ৯০ শতাংশই দখল করে আছে আবাসন খাত। কয়েক বছর ধরে এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

জাতীয়তার বিচারে এ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউএই নাগরিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছেন। যা সামগ্রিক লেনদেনের প্রায় ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৪০ কোটি ডলার। অন্যান্য উপসাগরীয় নাগরিকরা খরচ করেছেন ৬ শতাংশ। এছাড়া আরব নাগরিকরা তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ১৫ দশমিক শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে বিদেশীদের বিনিয়োগ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার পরিমাণ প্রায় ১৬০ কোটি ডলার, মোট বিনিয়োগ মূল্যের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

শারজার আবাসন খাতে বিনিয়োগের বিচারে এগিয়ে রয়েছেন ইউএই নাগরিকরা। এরপরই আছেন ভারত, সিরিয়া, ইরাক, জর্ডান, মিসর ও পাকিস্তানের নাগরিকরা।