চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাইকারি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এটিকে দেশটির অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার একটি প্রতীক হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি নিউজ।

মার্কিন শ্রম বিভাগ গত সপ্তাহের শেষের দিকে তাদের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। এ সূচকের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর আগে মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, পাইকারি মূল্যস্ফীতি গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দশমিক ১ শতাংশ কমার পর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। বছরওয়ারি হিসেবে জানুয়ারিতে প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। 

উদ্বায়ী খাদ্য ও জ্বালানি খরচ বাদে প্রকৃত পাইকারি মূল্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা গত জুলাই থেকে সবচেয়ে বেশি। এক বছর আগের তুলনায় প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল।

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে থাকা হতাশা কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। এ নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দেশটির মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতা থেকে কমে এসেছে। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবুও অধিকাংশ মার্কিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্ত। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন ক্ষমতায় আসেন তখন জিনিসপত্রের গড় দাম বর্তমানের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম ছিল।

প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স জানুয়ারিতে কিছুটা বাড়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিষেবার ব্যয় বৃদ্ধি, যা ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ উল্লম্ফন দেখিয়েছে। এছাড়া অনেক কোম্পানি পঞ্জিকা বছরের প্রথম দিকে মূল্য বাড়ায়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তোলে।

এদিকে শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক এ পরিসংখ্যান ফেডের বেঞ্চমার্ক সুদের হার কমানো শুরু করার বিষয়ে সতর্কতাকে প্রভাবিত করতে পারে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ মূল্যস্ফীতির নিম্নগামী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিশ্চিত করতে, ফেড কর্মকর্তারা আরো কয়েক মাসের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।