আবারো কমেছে জাপানি রাবারের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো পণ্যটির দাম কমল। গতকাল জাপানি রাবারের দাম কমে দুই বছরের সর্বনিম্নে নামে। মূলত শীর্ষ ক্রেতা দেশ চীনে পণ্যটির চাহিদা কমে যাওয়ার উদ্বেগে দাম কমছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

কভিড-১৯ মহামারীসংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার পর প্রত্যাশা করা হয়েছিল, চীনের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। শিল্প ও উৎপাদনসহ সব খাত দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে সেখানে রাবারের চাহিদাও ধীর হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ওসাকা এক্সচেঞ্জে (ওএসই) গতকাল জানুয়ারি সরবরাহ চুক্তিতে রাবারের দাম দশমিক ২ শতাংশ বা দশমিক ৩ ইয়েন কমেছে। প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৫ দশমিক ৯ ইয়েনে। কার্যদিবসের শুরুতে পণ্যটির দাম ১৯৫ দশমিক ১ ইয়েনে নেমে গিয়েছিল, যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে রাবারের দাম ৭৫ ইউয়ান বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ১২ হাজার ৯৮০ ইউয়ানে।

বিশ্লেষকরা জানান, সাংহাই ফিউচারস ও শীর্ষ রাবার উৎপাদক দেশগুলোর তুলনায় ওসাকা এক্সচেঞ্জে রাবারের দাম কম। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে জাপানি রাবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তারা দামের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে পণ্যটির বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী চাপের মুখে পড়ছে।

অন্যদিকে, ওসাকা এক্সচেঞ্জে দাম কম হওয়ায় শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলো সেখানে সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া পণ্যটির স্থানীয় মজুদও হয়ে উঠছে নিম্নমুখী। ফলে আগামী দিনগুলোয় জাপানি রাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।