পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত মাসে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)  মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

আইইএ জানায়, রাশিয়ার সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল রফতানি গত মাসে দৈনিক ছয় লাখ ব্যারেল করে বেড়েছে। দৈনিক রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ ব্যারেলে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

প্যারিসভিত্তিক সংস্থার তথ্য বলছে, জ্বালানি তেলজাত পণ্য রফতানি কভিড-পূর্ব অবস্থায় ফিরে গেছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি দৈনিক সাড়ে চার লাখ ব্যারেল করে বেড়েছে। রফতানি দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেলে। 

এদিকে ফেব্রুয়ারির তুলনায় জ্বালানি তেল রফতানি থেকে আয়ও বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। দৈনিক ১০০ কোটি ডলার করে বেড়ে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে। যদিও তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় রদবদল পরিলক্ষিত হয়েছে। ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত দেখিয়ে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দেয়াই এর উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে পশ্চিমাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রুশ জ্বালানি ও আর্থিক খাত। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার ওপর জি৭ভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে রুশ জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ আরোপ করেছে। 

পাল্টা জবাব দিয়েছে রাশিয়াও। যেসব দেশ প্রাইস ক্যাপ চুক্তিতে অংশ নিয়েছে, সেসব দেশে অধ্যাদেশ জারি করে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপে মোটাদাগে জ্বালানি পণ্য বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে মস্কো। 

বিপরীতে এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল বিক্রি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব দেশকে দেয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের সুবিধা। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে বিকল্প বাজার থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি দামে জ্বালানিটি বিক্রি করছে বিভিন্ন উত্তোলক দেশ।