জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবেলা করতে জাপানি প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখতে চান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতারা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এবং জাপান চলতি বছর বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বছর উদযাপন করবে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি টোকিওতে এ নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কুয়ালালামপুরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাইত আল আমানাহর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আব্দুল রাজাক আহমেদ জানান, যখন জাপানিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়, তখন শুধু আমদানি-রফতানির ওপর দৃষ্টি রাখেন। শুধু ব্যবসার ওপর গুরুত্ব দেন। এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা দরকার। সহযোগিতার অন্য ক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দেয়া দরকার। সত্যিকার অর্থে যে খাতগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে তার মধ্যে একটি হলো প্রযুক্তি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির খাত হলো"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।"এটা আসিয়ানের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।

আব্দুল রাজাক আহমেদ বলেন, ‘‌আপনি যদি বিশ্বের চারপাশে কী ঘটছে সেদিকে তাকান, তাহলে নানা বিষয় দেখবেন। খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অভিবাসন আপনাকে চিন্তায় ফেলবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি সহজ সমাধান এনে দিতে পারে। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রয়োজন। আমি মনে করি এখানে আসিয়ান ও জাপান একটি নতুন মাত্রা এনে দিতে পারে। যদি অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা পাওয়া যায়।’

মালয়েশিয়া-জাপান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাফল্যের কথা এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। এটি ২০১১ সালে কুয়ালালামপুরে স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি জাপানি ধাচের প্রকৌশল শিক্ষা প্রদান করে আসছে। পরের বছর জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস খোলে।

আব্দুল রাজাক আহমেদ জানান, জাপান তার পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে চীনের মতো আগ্রাসী নয়। দেশটির পররাষ্ট্র নীতি সবসময়ই অত্যন্ত সতর্ক এবং নিয়ম মেনে চলে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র নীতি অনেকটা বাণিজ্য ও বিনিয়োগনির্ভর।