চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটিনামের পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে আগামী বছর তা ঘাটতিতে রুপ নিতে পারে। সম্প্রতি এক পূর্বাভাস এমনটা জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড প্লাটিনাম ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল (ডব্লিউপিআইসি)।
গাড়ির কার্বন নিঃসরণ রোধ, শিল্প খাত ও অলংকার তৈরিতে প্লাটিনাম ব্যবহার হয়। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী বছর ধাতুটির ব্যবহার বাড়াতে পারে। বিনিয়োগকারীরা নিট বিক্রেতা থেকে নিট ক্রেতায় রূপান্তরিত হতে পারে। ফলে আগামী বছর ধাতুটির চাহিদা ১৯ শতাংশ বেড়ে ৭৭ লাখ ৭০ হাজার আউন্সে পৌঁছতে পারে। ২০২০ সালের পর এটি সর্বোচ্চ চাহিদা।
বিদ্যুতের ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে আগামী বছর শীর্ষ প্লাটিনাম উত্তোলক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ধাতুটির সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। এতে আগামী বছর ৩ লাখ ৩ হাজার টন প্লাটিনামের ঘাটতি তৈরি হবে বলে জানিয়েছে ডব্লিউপিআইসি।
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চলতি বছর ৯ লাখ ৭৪ হাজার টন প্লাটিনাম উদ্বৃত্ত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে সম্প্রতি তা কমিয়ে ৮ লাখ ৪ হাজার টন ধরা হয়েছে।
গাড়ি উৎপাদন বাড়তে থাকায় অটোমোবাইল শিল্পে ধাতুটির চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ রোধে কঠোর নীতিমালার কারণে এক্সহোস্ট সিস্টেমে ধাতুটির ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে।
গাড়ি নির্মাতারা ব্যয়বহুল প্যালাডিয়ামের পরিবর্তে কম দামি প্লাটিনাম ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। শুধু এ কারণেই চলতি বছর অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার আউন্স ও আগামী বছর অতিরিক্ত পাঁচ লাখ আউন্স প্লাটিনামের চাহিদা তৈরি হবে।
এদিকে আগামী বছর প্লাটিনামের বার ও কয়েন ক্রয় ৪৯ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে ডব্লিউপিআইসি। বিশেষ করে জাপানে ক্রয়ের হার ব্যাপক বেড়েছে। তবে এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং ফান্ড ও এক্সচেঞ্জগুলো থেকে ধাতুটির বহিঃপ্রবাহ তুলনামূলক কমতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প খাতে আগামী বছর ধাতুটির চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে গ্লাস উৎপাদকরা এটির ব্যবহার বাড়াবে ৫২ শতাংশ। গাড়ি উৎপাদক ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চলতি বছর অতিরিক্ত সরবরাহ সত্ত্বেও প্লাটিনামের প্রাপ্ততা সংকুচিত হয়ে উঠেছে। কারণ চীন গত বছর থেকে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ আউন্স প্লাটিনাম আমদানি করেছে।
এ আমদানি গত ও চলতি বছরের উদ্বৃত্তের পরিমাণকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে ঘাটতি পরিমাপের জন্য পাশ্চাত্যের বাজার পরিস্থিতি নিরূপণের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ডব্লিউপিআইসি।










