ভারতে ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়িয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষিবিষয়ক সংস্থা ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। সর্বশেষ সংশোধিত প্রতিবেদনে এফএএস জানিয়েছে, ভারতে চলতি মৌসুমে ১ কোটি ২৮ লাখ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদিত হতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইন।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃষিপণ্য রফতানিকারক ভারতে এল নিনোর প্রভাবে ফলন কমার আশঙ্কার মধ্যেই এ পূর্বাভাস সংশোধন করেছে সংস্থাটি।
এফএএস জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে দেশটিতে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ কোটি ১৯ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, যা ২০২২-২৩ মৌসুমে উৎপাদিত ১ কোটি ২৪ লাখ টনের তুলনায় কম।
তবে এফএএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এল নিনোর কারণে ২০২৪ সালের ভারতের কৃষি খাত বেশ প্রভাবিত হবে। এর কারণে তেলবীজসহ বিভিন্ন শস্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভারতে ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে ১৭ লাখ টন সয়াবিন তেল উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কম। ভোজ্যতেল ও ফিড হিসেবে শস্যটির ব্যাপক অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকায় ভারতের সয়াবিন রফতানির সুযোগ বেশ কম। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটিতে ১ কোটি ৭০ লাখ টন ভোজ্যতেল কিনেছে। তবে এ বছর ভোজ্যতেল আমদানি কমার ইঙ্গিত দিয়েছে এফএএস। তেলবীজের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ায় ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভারতের ১ কোটি ৫০ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করতে হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ লাখ টন কম।
বৈশ্বিক পর্যায়ে নানা ভূরাজনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর কারণে ভারতে পাম অয়েল, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি কমেছে। এর মধ্যে পাম অয়েল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, সয়াবিন তেল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ ও সূর্যমুখী তেল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হারে কমেছে।
অন্যদিকে ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে দেশটিতে সয়াবিন উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টনে, যা গত মৌসুমের ৮২ লাখ ৮০ হাজার টনের তুলনায় কম। তবে চলতি মৌসুমের প্রত্যাশিত উৎপাদন ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদিত ৬৮ লাখ টনের তুলনায় বেশি রয়েছে।
এফএএসের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে সয়াবিনের মজুদ ১৪ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। কেননা কৃষকরা আরো ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় সয়াবিন সংরক্ষণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।










