আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সংকট তৈরি হলে কারখানায় অভিযান পরিচালনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি। গতকাল রাজধানীতে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সরবরাহ বেশি থাকলে দাম স্বাভাবিক থাকবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার অনুরোধ, পণ্যের সরবরাহ আপনারা নিশ্চিত করুন। কোনো মিল বা কারখানা যদি সরবরাহ কমিয়ে দেয়, তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়ে সে কারখানায় অভিযান চালাব। আমদানিকারক বা ব্যবসায়ী যত বড় হোক না কেন, অনিয়ম হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাহাজে যেসব পণ্য আটকে আছে, সেগুলো রমজানের আগেই খালাসের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা আমাকে তথ্য দেবেন কোথায় আটকে আছে। আমাকে তথ্য দিলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। ব্যবসায়ীরা শুল্কের বিষয়ে বলেছেন। আমরা আগামী বাজেটের আগে ব্যবসায়ীদের কথা শুনব। সরকার খেজুরের যৌক্তিক পর্যায়ে ট্যাক্স কমিয়ে এনেছে। আপনারাও খেজুর যেন যৌক্তিক মূল্যে ভোক্তারা কিনতে পারেন তার ব্যবস্থা করবেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘নতুন সরকার গঠনের পর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পেছনে দৌড়ানো আমাদের কাজ নয়। সামনে রমজান আসছে। এ সময়ে ভোক্তা সাধারণ যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
এ সময় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিভিন্ন পণ্য করপোরেট গ্রুপগুলো আমদানি করে। তারা যে দাম নির্ধারণ করে, সে অনুযায়ী আমাদের চালাতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দাম বাড়লে একচেটিয়া ব্যবসায়ীদেরই শুধু দোষ দেয়া হয়। আমি অনুরোধ করব যেন এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে কাজ করা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশে ৪০ টাকায় চিনি বিক্রি হয়। অথচ আমাদের কেজিতে ৪৩ টাকা শুল্ক দিতে হয়। জুন মাসে বাজেট হয়, এরপর আর শুল্ক সমন্বয় করা হয় না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পরিবর্তন হলে শুল্ক সমন্বয় করতে হয়।’
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ মো. বশির উদ্দিন বলেন, ‘মৌলভীবাজারের কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের জানাবেন। অভিযান করতে হলে আমাদের সঙ্গে নেবেন। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে শুধু জরিমানা না, প্রয়োজনে জেলে দেন,৷ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. সোলাইমান সেলিম, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও তাজা ফল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।










